একের পর এক কলঙ্ক লাগছে দেশের ৮৩ ভাগ রপ্তানি আয়ের খাত তৈরি পোশাক মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ নির্বাচন ঘিরে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে গতকাল প্রতিদ্বন্দ্বী একটি প্যানেলের প্রার্থীরা মনোনয়ন ফরম জমা দিয়ে চলে আসার পর তাদের কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তার প্রতিবাদে কারওয়ান বাজারের ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের সামনে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করেছেন পোশাক খাতের বড় ব্যবসায়ীরা। তবে বিজিএমইএ ভবনের ভেতর কারও ওপর হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিজিএমইএর পুরনো দুটি প্যানেল সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরাম ২০১৫ সালের নির্বাচনের আগে সমঝোতায় পৌঁছায়। ওই বছর সম্মিলিত পরিষদ নেতাদের সভাপতি, সহসভাপতিসহ অধিক সংখ্যক পদ নিয়ে দুই বছর মেয়াদে কমিটি গঠন করা হয়। সমঝোতা অনুযায়ী এবারের নির্বাচনে ফোরাম থেকে সভাপতিসহ অন্যান্য পদে বেশিসংখ্যক নেতা নিয়ে কমিটি গঠন করার কথা। এরই মধ্যে তৃতীয় প্যানেল হিসেবে স্বাধীনতা পরিষদের আবির্ভাব ঘটলে সংগঠনটির নির্বাচন ও সমঝোতা নিয়ে নানামুখী চেষ্টা-তদবির চালাতে থাকেন তিন প্যানেলের নেতারা। এ পরিস্থিতির মধ্যে স্বাধীনতা পরিষদের কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা সংগঠনটির নির্বাচন নিয়ে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করছে।
স্বাধীনতা পরিষদের আহ্বায়ক ও ডিএসএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. জাহাঙ্গীর আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমাদের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দিয়ে চলে যাওয়ার পর কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। হামলার প্রতিবাদে শনিবার বেলা ৩টায় কারওয়ান বাজারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছি আমরা। মানববন্ধনে হামলাকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
জাহাঙ্গীর বলেন, ‘ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী শনিবার বিজিএমইএ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। আমরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে চলে আসি। আমাদের কিছু স্টাফ রিসিভ কপি (প্রাপ্তিস্বীকার পত্র) আনার জন্য সেখানে অপেক্ষা করেন। পরে রিসিভ কপি নিয়ে তারা বিজিএমইএ থেকে বের হওয়ার সময় তাদের ওপর হামলা হয়। মারধর করে তাদের কাছ থেকে রিসিভ কপির কাগজগুলো ছিনিয়ে নেওয়া হয়।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি বেলা ১১টা থেকে বিজিএমইএ ভবনে আছি। তখন থেকে অফিসের ভেতরে কারও ওপর কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। অফিসের বাইরে কেউ হামলার শিকার হলে তার দায় আমাদের নয়।’
স্বাধীনতা পরিষদের নেতারা অভিযোগ করে বলেন, মোস্তাক ফ্যাশনওয়্যারের মালিক ও তাদের সমর্থক এইচ এম মোস্তাক বিজিএমইএ ভবন থেকে বের হওয়ার পথে হামলার শিকার হন। মোস্তাক দেশ রূপান্তরকে বলেন, আহাদ আনসারী, ফিরোজ, আমজাদ, লিটন নামের কয়েকজন তার ওপর হামলা করেন। অভিযুক্তরা কেউই বিজিএমইএর কোনো কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। হামলাকারীদের শাস্তি দাবি করে তিনি বলেন, এরা যেন আর বিজিএমইএ ভবনে ঢুকতে না পারে, সেজন্য কর্র্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
তবে রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জানা গেছে, স্বাধীনতা পরিষদের প্যানেলে যারা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন তাদের একজন বাদে সবার মনোনয়নপত্রই বৈধ বলে ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ফরমে স্বাক্ষর না থাকায় একজন প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৬ এপ্রিল বিজিএমইএর ৩৫টি পরিচালক পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৬ মার্চ।