নানা সমস্যায় জর্জরিত সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। উপজেলার প্রায় ৪ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে স্থাপিত এই হাসপাতালটিতে নেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও যন্ত্রপাতি। তাছাড়া হাসপাতালের একমাত্র জেনারেটরটি অনেক দিন থেকে নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। এক্সরে মেশিনটাও নষ্ট। একমাত্র অ্যাম্বুলেন্স তাও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গ্যারেজে পড়ে আছে।
যান্ত্রিক ও কারিগরি সমস্যার পাশাপাশি মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হচ্ছে হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট। এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১ জন চিকিৎসক নিয়মিত থাকার কথা থাকলেও পদ শূন্য রয়েছে ৮টি। এছাড়া একজন চিকিৎসক চট্টগ্রাম পুলিশ হাসপাতালে সংযুক্ত নিয়োগে আছেন, আরেক জন প্রশিক্ষণ ছুটিতে। চক্ষু, চর্ম, অ্যানেসথেসিয়া, অর্থোপেডিক্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে নেই কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, আউটডোরে শিশু, মহিলা, মেডিসিন, সার্জারিসহ প্রতিটা চেম্বারে রোগীদের দীর্ঘ লাইন। হাসপাতালের বেডে ভর্তি আছেন ৬০ জন। রোগীর তুলনায় ডাক্তার কম হওয়ায় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী প্রতিদিন আউটডোরে চিকিৎসা নিতে আসেন পাঁচ শতাধিক রোগী। জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেন অনন্ত ১০০ জন। রোগীর তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা কম হওয়ায় রোগীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে জানান আউটডোরে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন।
মাত্র ১১ জন চিকিৎসকের পক্ষে কাক্সিক্ষত চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে স্বীকার করেন সীতাকুন্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবদুল মজিদ। তিনি বলেন, চিকিৎসকরা আন্তরিক হলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু চিকিৎসা সরঞ্জাম ঘাটতি থাকায় কাক্সিক্ষত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও চিকিৎসা সরঞ্জামের জন্য জেলা সিভিল সার্জনকে অবহিত করা হয়েছে।