স্মার্টফোনে ইসিজি ডিভাইস প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম ব্যবহারকারীদের। হৃদরোগ জটিলতায় ভুক্তভোগী মানুষের জন্য এটি খুব কাজের বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের গবেষকরা। গবেষণায় তারা দেখেছেন, গতানুগতিক পরীক্ষা পদ্ধতির চেয়ে স্মার্টফোনে থাকা ইসিজি ডিভাইস অনেক সাশ্রয়ী এবং পাঁচ গুণ বেশি কার্যকর।
জানা গেছে, যুক্তরাজ্যের অন্তত ১৫টি ইমার্জেন্সি বিভাগে স্মার্টফোন ইসিজি ডিভাইসটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়। ফলে দেখা গেছে, এটি একটি নির্ভুল পদ্ধতি, যা আধুনিক হৃদরোগ চিকিৎসার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসতে যাচ্ছে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো এটি একটি সাশ্রয়ী পদ্ধতি।
যুক্তরাজ্যে প্রতি বছর প্রায় তিন লাখ মানুষ হৃদরোগ সমস্যা নিয়ে জরুরি বিভাগের দ্বারস্থ হন।
স্মার্টফোনের ইসিজি বাড়িতে অবস্থানকালে একজন হৃদরোগীর হৃৎস্পন্দন রেকর্ড করে রাখতে পারে। এই রেকর্ড দেখে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে।
গবেষক দলটির প্রধান এডিনবার্গ রয়্যাল ইনফার্মারির ড. ম্যাথু রিড বলেন, ‘আমরা দেখেছি, স্মার্টফোনে ব্যবহৃত ইসিজি ডিভাইস সহজ এবং স্বল্প খরচে হৃৎস্পন্দন পরিমাপ করে রোগ নির্ণয় করতে সক্ষম।’
অনেক সময় দেখা যায়, কারও হয়তো বুক ধড়ফড় করছে। কিন্তু এমনটি মাঝেমধ্যে বড় কোনো সমস্যা ছাড়া অকারণেই হতে পারে। স্মার্টফোনের ইসিজি ডিভাইস এ ক্ষেত্রেও ভুক্তভোগীকে নির্ভুল আশ^াস দিতে সক্ষম। এমন পরিস্থিতিতে এটি রোগীকে জানিয়ে দেয়, এই বুক ধড়ফড়টি ততটা দুশ্চিন্তার নয়। কিন্তু যারা এ-সংক্রান্ত সিরিয়াস সমস্যার মুখোমুখি হয়, ডিভাইসটি সময়মতো সতর্ক করে হৃদরোগ আক্রান্ত ব্যক্তির প্রাণ বাঁচিয়ে দিতে সক্ষম। রিড বলেন, ‘আমরা চাইছি এই প্রযুক্তিটি সব জরুরি বিভাগেও সংযুক্ত করা হোক।’
বুক ধড়ফড় সব সময় সিরিয়াস কোনো সমস্যা নয়। কিন্তু এটি মাঝেমধ্যে হৃদকম্পন ত্রুটির জন্যও হয়ে থাকে। এ থেকে স্ট্রোকের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
চিকিৎসা ব্যবস্থায় ইসিজি এমন একটি পদ্ধতি, যা রোগীর হৃৎস্পন্দন পরিমাপ এবং রোগ নির্ণয় করতে ডাক্তাররা ব্যবহার করেন। গবেষকরা, হৃৎস্পন্দনজনিত সমস্যা নিয়ে জরুরি বিভাগে আসা ২৪০ জন রোগীর ওপর স্মার্টফোন ইজিসির পরীক্ষা চালিয়েছিলেন।