মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত জঙ্গিকে মুক্ত করতে ডাকাতি!

কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারে থাকা মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত জঙ্গি উজ্জ্বলকে যেকোনো উপায়ে মুক্ত করার পরিকল্পনা করেছিল হরকাতুল জিহাদ (হুজি)। এজন্য ডাকাতির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করছিল। বিভিন্ন ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করে পেশাদার ডাকাতদের দিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে তারা। ডাকাতির টাকার ৩০ শতাংশ জঙ্গি সংগঠনের কাজে ব্যয় করে।

গত রবিবার রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর দোলাইরপাড় এলাকা থেকে ১২ ডাকাত ও গতকাল সোমবার রামপুরা থেকে ২ হুজি সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ডাকাত ও জঙ্গিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এসব তথ্য পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন জানান, হুজি নেতা উজ্জ্বল ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা মামলায় ফাঁসির দ-প্রাপ্ত আসামি। তাকে  ছাড়িয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছিল গ্রেপ্তার দুই জঙ্গি হুজি সদস্য হাফিজ ওরফে খালিদ ওরফে ইব্রাহীম গাজী ও মামুনুর রশিদ ওরফে বাচ্চু মোল্লা। এর আগে রাতে গ্রেপ্তার হয় ১২ ‘ডাকাত’। গ্রেপ্তার ডাকাতরা মূলত মূল টার্গেট করত নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার রয়েছে এমন ব্যক্তিদের। এই কাজের মূল পরিকল্পনা করত হুজির দুই সদস্য। পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা এ পর্যন্ত ৯টি ডাকাতির মাধ্যমে ৫ কোটি টাকা লুট করার কথা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, রবিবার রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার দোলাইরপাড় এলাকার পূবালী ব্যাংকের সিকিউরিটি গার্ডকে জিম্মি করে ডাকাতির পরিকল্পনায় জড়ো হয়। এ সময় ডিবি পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। এর আগে গত ১৩ জানুয়ারি ময়মনসিংহের ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানিতে ডাকাতির চেষ্টাকালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এক পুলিশ সদস্যকে গুলি করে পালিয়ে গিয়েছিল তারা। ডাকাত দলের সদস্যরা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতের বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি করে এর আগে জেল খেটেছে।

আবদুল বাতেন আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদে ‘ডাকাত দলের সদস্য’ আতিকুর রহমানের দেওয়া তথ্য মতে রামপুরার বাসা থেকে অস্ত্রসহ ২ হুজি সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। হুজি সদস্যরা জানিয়েছে, জঙ্গিনেতা উজ্জ্বলের নির্দেশে ও সংগঠন পরিচালনা করার লক্ষ্যে তারা এসব ডাকাতি করে। তারা আরও জানিয়েছে, বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জঙ্গিবিরোধী অভিযানের কারণে উগ্রবাদী সংগঠনগুলো পরিচালনা ও তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আর্থিক সক্ষমতা আগের মতো নেই। কেউ টাকা দিতে চায় না। ফলে তারা ডাকাত দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে ডাকাতির মাধ্যমে লুণ্ঠিত অর্থের ৩০ শতাংশ সংগঠনের কাজে ব্যয় করত। তাদের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় ২টি ও রামপুরা থানায় ১টি মামলা করা হয়েছে।

১২ ডাকাতসহ ২ হুজি সদস্য গ্রেপ্তার : রবিবার রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর দোলাইরপাড় এলাকা থেকে গ্রেপ্তার ১২ ডাকাত হলোÑ মোফাজ্জল হোসেন ওরফে বড় ভাই ওরফে দাদু (ডাকাত সর্দার), মো. জহির উদ্দিন ভূঁইয়া ওরফে চৌধুরী, আতিকুর রহমান, মো. মনিরুজ্জামান ওরফে নয়ন, লাড্ডু মোল্লা, কাইয়ুম শিকদার, আলাউদ্দিন শেখ, মুন্সী খসরুজ্জামান মেজর ওরফে মেজর, মো. জাহাঙ্গীর হাওলাদার, সুব্রত দাস, মিন্টু কর্মকার ও অলিউল্লাহ হাওলাদার অলি। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪টি বিদেশি পিস্তল, ৩৩ রাউন্ড গুলি, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ, মুখোশ, চাপাতি, ছুরি, কাটার, হেক্সো ব্লেড, স্লাইড রেঞ্জ ও স্কচটেপ উদ্ধার করা হয়।

গতকাল গ্রেপ্তারের সময় হাফিজ ও মামুনের কাছ থেকে একটি বিদেশি একে-২২ বোরের রাইফেল, একটি পাইপগান, ৪১ রাউন্ড গুলি, ১২টি জিহাদি বই, গানপাউডার, ককটেল, পাঁচটি কালো রঙের মুখোশ ও সংগঠন পরিচালনা করার কাজে ব্যবহৃত ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার হয়।