ইন্দোনেশিয়ার সরকারের এক কলমের খোঁচায় বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে ওরাংওটাংয়ের সবচেয়ে বিরল একটি প্রজাতি। দেশটির আদালত যাতে বিতর্কিত একটি বাঁধ নির্মাণে অনুমতি না দেয়, তাই প্রায় এক মাস ধরে আন্দোলন করছে বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন। সরকার উত্তর সুমাত্রার বাটাং তরুবনে দেড় বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে একটি বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। অথচ ওই অঞ্চলেই বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর ও বিরল তাপানুলি ওরাংওটাংদের বসবাস। ২০১৭ সালে এই প্রজাতিটিকে শনাক্ত করে বিজ্ঞানীরা। এখন ওই অঞ্চলে মোট ৮০০ তাপানুলি ওরাংওটাং বাস করে। এ ছাড়া তরুবন ও সংলগ্ন বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সুমাত্রার বিরল বাঘ ও বানরের বাস। বাঁধের কারণে এই প্রাণীরাও হুমকির মুখে পড়বে, এমনটাও বলা হচ্ছে।
২০২২ সালের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ওই বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ইন্দোনেশীয় সরকার। দেশটির পিটি নর্থ সুমাত্রা হাইড্রো এনার্জি নামক প্রতিষ্ঠানটিকে এই বাঁধ নির্মাণের কাজ দেওয়া হয়েছে, সঙ্গে থাকবে চীনা কোম্পানি সিনোহাইড্রো। কোম্পানিটি জানায়, ওই বাঁধ থেকে ৫১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে, যা দিয়ে গোটা অঞ্চলের বিদ্যুতের চাহিদা মিটবে।
চলতি বছরের শুরুর দিকে ফোরাম ফর দ্য এনভায়রনমেন্ট উত্তর সুমাত্রা প্রশাসনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে। কিন্তু মেদান স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কোর্ট ওই মামলা খারিজ করে দেয়। ফলে বাঁধ নির্মাণে আক্ষরিক অর্থে আর কোনো বাধা থাকে না। কিন্তু সংস্থাটি উচ্চ আদালতে আবারও মামলা করে ওই রায়ের বিরুদ্ধে। এখনো আদালত এ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। অধ্যাপক উইচ বিবিসিকে জানান, এই বাঁধ নির্মাণ করা হলে তাপানুলি প্রজাতির সংখ্যা রাতারাতি কমতে থাকবে। কারণ তরুবন ওই হাউড্রো বাঁধের পানিতে ডুবে যাবে। আর পানির মধ্যে ওরাংওটাংরা থাকতে পারে না। বিতর্কিত এই বিষয়টি নিয়ে ব্যাংক অব চীন এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরিবেশ প্রতিবেশ রক্ষায় তাদের নীতির সঙ্গে না গেলে বাঁধ নির্মাণের মতো কোনো প্রকল্পে তারা অর্থায়ন করবে না।