রূপপুরের তথ্যও পাবে ভারত

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সব তথ্যই পাবে ভারত ও রাশিয়া।  দেশের প্রথম এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের তথ্য দেশ দুটির সঙ্গে বিনিময় করতে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তির খসড়া তৈরি করেছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্র্তৃপক্ষ। এখন চুক্তির এ খসড়া চূড়ান্ত করে আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।  এ প্রকল্পের পরিচালক মো. শৈকত আকবর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন। আমাদের ব্যবস্থাপনায় কোনো প্রয়োজন হলে আমরা ভারতের কাছ থেকে মাঝেমধ্যে পরামর্শ চাই। আমাদের নিয়ন্ত্রক কর্র্তৃপক্ষ হলো বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্র্তৃপক্ষ। তথ্য বিনিময় ও সমন্বয়ের জন্য ভারত ও রাশিয়ার সঙ্গে যে চুক্তি সইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ন্ত্রণ কর্র্তৃপক্ষ নিয়েছে। তাই এ বিষয়ে আমার সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে রাশিয়া ও ভারতের পরামর্শক সেবা নেওয়ার জন্য ২০১৭ সালে একটি চুক্তি হয়। এরপর এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের নির্মাণ, পরিচালনা, নিরাপত্তা, পরামর্শক সেবা দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের কাজে সম্পৃক্ত হয় ভারত। এখন দেশ দুটির কাছ থেকে পরামর্শক সেবা নেওয়ার জন্যই পারস্পরিক তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় করতে নতুন একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে। রাশিয়ার ফেডারেল এনভায়রনমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড নিউক্লিয়ার সুপারভিশন সার্ভিস, ভারতের পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (এইআরবি) ও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্র্তৃপক্ষের মধ্যে নতুন চুক্তির খসড়া তৈরি করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে তা স্বাক্ষর করা হবে। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের প্রথম পারমাণবিক এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি হওয়ার পর থেকেই প্রকল্পটির নির্মাণ, পরিচালনা ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে ভারত। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে দেশটি একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তির খসড়া তৈরি করে বাংলাদেশে পাঠায়। এতে বলা হয়, ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের মাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেবে ভারত।

তথ্য বিনিময় ও সমন্বয়ের জন্য চুক্তির খসড়াটি চূড়ান্ত করতে গত বছরের আগস্ট মাসে প্রথম আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়। ওই সভার কার্যবিবরণী থেকে জানা গেছে, খসড়াটি সংশোধনের পর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলোর মতামত নেবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। এরপর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় লিখিতভাবে মতামত দিলেও কোনো মতামত নেই বলে অন্য মন্ত্রণালয়গুলো জানিয়ে দেয়। দুই মন্ত্রণালয়ের মতামত অনুযায়ী খসড়াটি সংশোধন করে তা চূড়ান্ত করতে গত ১৫ জানুয়ারি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে আরেকটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হয়। 

বৈঠকে সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সর্বোত্তম নিরাপত্তা সংবলিত প্রযুক্তি রাশান ফেডারেশনের ভিভিইআর-১২০০ জেন-৩ প্লাস রিঅ্যাক্টর টেকনোলজি ব্যবহার করা হবে। রাশান ফেডারেশনের একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভারতে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের রেগুলেটরি সংক্রান্ত কাজে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে, তা পূরণের জন্যই এ বিষয়ে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, পারমাণবিক নিরাপত্তা বিষয়ে রেগুলেটরি কাজের মনিটরিং বিষয়ে পরামর্শক সেবা পাওয়া নিশ্চিত করতে ২০১৭ সালের ৮ এপ্রিল পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।’

নতুন চুক্তির প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে সভায় আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘উভয় দেশ (রাশিয়া ও ভারত) হতে প্রাপ্ত পরামর্শক সেবা সমন্বয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করার জন্য তিন পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক তথ্য বিনিময় এবং অবহিত হওয়া প্রয়োজন। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্র্তৃপক্ষ, রাশান ফেডারেশন এবং ভারতের সংশ্লিষ্ট রেগুলেটরি প্রতিষ্ঠানের সম্মতিক্রমে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্র্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান নঈম চৌধুরী সভায় বলেন, ‘পারমাণবিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয় আবশ্যিকভাবে পালনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সাইটিং, ডিজাইন, নির্মাণ লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আণবিক দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার অ্যান্ড রেডিওলজিক্যাল ইমার্জেন্সি প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যান্ড রেসপনস প্লানের (এনএনআরইপিআরপি) খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।’