আশা নিয়ে বসে আছে বিএনপি জিততে মরিয়া আওয়ামী লীগ

টানা তিনবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আছে আওয়ামী লীগ। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের ‘জয়জয়কার’ থাকলেও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে অবস্থা উল্টো। গত কয়েক বছর ধরেই আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে বেশিরভাগ পদে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা। এবার অবস্থার পরিবর্তনে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা। অপরদিকে বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের আশা, এবারও তারা জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সক্ষম হবে।

সর্বোচ্চ আদালতে আগামী এক বছরের জন্য আইনজীবীদের অভিভাবক নির্ধারণে সভাপতি-সম্পাদকসহ ১৪টি পদে আগামী ১৩ ও ১৪ মার্চ ভোট হবে। নির্বাচনে (২০১৯-২০) আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ (সাদা প্যানেল) থেকে সভাপতি প্রার্থী হয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক অ্যাডভোকেট এএম আমিন উদ্দিন। সম্পাদক পদে প্রার্থী বাংলাদেশ আইন সমিতির সাবেক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুন নূর দুলাল। আর বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (নীল প্যানেল) থেকে সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন সমিতির সাবেক সভাপতি ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আবদুল জামিল মোহাম্মদ আলী (এ জে মোহাম্মদ আলী)। সম্পাদক পদে লড়বেন বর্তমানে এই পদে থাকা ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ বিভেদ, জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের সক্রিয় না থাকা, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস, আইনজীবীদের মধ্যে প্রভাব ও জাগরণ সৃষ্টিতে ব্যর্থতাÑ এসব কারণে নির্বাচনে ব্যর্থ হচ্ছেন আওয়ামীপন্থিরা। অন্যদিকে গত এক দশকে মাঠ পর্যায়ের রাজনীতিতে বিএনপির হতশ্রী অবস্থা থাকলেও সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা প্রাধান্য দেখিয়েছেন। সর্বশেষ (২০১৮-১৯) নির্বাচনে সভাপতি-সম্পাদকসহ ১৪টি পদের মধ্যে ১০টি পদে জয়লাভ করেন তারা।

এবারের নির্বাচনে প্রার্থী নিয়ে উভয় প্যানেলেই কিছুটা অস্বস্তি আছে। আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীদের একাংশ বলছে, এবারও কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে প্রার্থীদের। তবে অতীতের ব্যর্থতা পেছনে ফেলে

জয়ের আশা করছেন এই প্যানেলের শীর্ষ আইনজীবীরা। বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা সব সময়েই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। ঐক্যবদ্ধ আছি, আমাদের মধ্যে কোনো সমস্যা নেই।’ প্রার্থিতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘মনোনয়ন তো আমরাই দিয়েছি। নতুন প্রজন্মকে আমরা সামনে নিয়ে আসতে চাই।’ আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী এএম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘যেভাবে প্রচার চলছে, তাতে আমরাই জয়লাভ করব।’ 

বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের একাংশ বলছে, আইনজীবী মহলে সরব উপস্থিতি নেই নীল প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী এ জে মোহাম্মদ আলীর। মিডিয়াবিমুখ জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবী বিএনপি চেয়ারপারসনের মামলা ছাড়া দলীয় কর্মসূচিতেও তেমন সরব নন। বিশেষ করে তরুণ আইনজীবীদের মধ্যে তেমন প্রভাব নেই তার। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির বর্তমান সভাপতি জয়নুল আবেদীনকে এবারের নির্বাচনেও একই পদে প্রার্থী করার পক্ষে ছিল বিএনপি সমর্থক বেশিরভাগ আইনজীবী। এসব কারণে তিনি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে পারেন।

এসব বিষয়কে অবশ্য পাত্তা দিচ্ছেন না সমিতির বর্তমান সভাপতি বিএনপিপন্থি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। তিনি বলেন, ‘এটি (মোহাম্মদ আলীর প্রার্থিতা) দলের সিদ্ধান্ত। আমরা মনে করি, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আইনজীবীরা আমাদের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে মনোনীত করবেন।’ এই প্যানেল থেকে গত ছয়বারের নির্বাচিত সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনজীবীদের সুযোগ-সুবিধার স্বার্থে আমরা মনে করি, ভোটাররা আমাদেরকেই নির্বাচন করবেন। যেকোনো নির্বাচন নিয়ে সব দলেই কিছু সমস্যা থাকে। তবে এই মুহূর্তে আমাদের মধ্যে কোনো সমস্যা নেই।’