সায়েন্স ফিকশন মানেই বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী, কে না জানে! অবাস্তব সব বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি, যুক্তি, ব্যাখ্যা যা কখনো আবিষ্কার করা সম্ভবও না, সেইসব বিষয়কে কল্পনার আশ্রয়ে গল্প আকারে পাঠকদের কাছে হাজির করে এসব সায়েন্স ফিকশন। বিজ্ঞানমনস্ক স্বপ্নবিলাসী লেখকদের হাতেই এই সাহিত্যের জন্ম।
তবে মজার কথা হচ্ছে, এসব ফিকশন থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে পরবর্তীতে আবিষ্কার হয়েছে অনেক কিছুই। এখনকার আবিষ্কৃত হওয়া অনেক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির ধারণা পাওয়া যায় অনেক বছর আগে লেখা সায়েন্স ফিকশনে।
সায়েন্স ফিকশান ‘ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন’ কে না পড়েছে। মেরি শেলির এ উপন্যাসে দেখা যায়, দানবের জন্মের সময় বিদ্যুৎ প্রয়োগের মাধ্যমে হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণে একটি যন্ত্র ব্যবহৃত হয়। পরবর্তীতে এই কাজ করতেই এমন একটি যন্ত্র আবিষ্কার হয় এবং বিশ্বব্যাপী হাসপাতালগুলোতে এটি ব্যবহৃত হয় চিকিৎসা দিতে।
এইচ জি ওয়েলসের সায়েন্স ফিকশন ‘দ্য ওয়ার্ল্ড সেট ফ্রি’-এ দেখা যায় বিস্ফোরণের জন্য বিমান থেকে বোমা ফেলা হচ্ছে। এ থেকেই বিজ্ঞানী লিও সিলার্ড অনুপ্রেরণা পেলেন পরমানু চেইন প্রক্রিয়ার। যা পরবর্তীতে এটম বোমা আবিষ্কারে বড় ভূমিকা রাখে।
বিখ্যাত ঔপন্যাসিক জর্জ অরওয়েলের ‘১৯৮৪’ উপন্যাসের নাম কে না শুনেছে, পৃথিবীব্যাপী এটি বহুল পঠিত। সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চাইলে মানুষকে ব্যক্তি তথ্য বা ডাটায় ঢুঁ মারতে পারে এমন পূর্ভাবাস দেওয়া হয়। তথ্য প্রযুক্তির এ সময়ে এটি এখন সাধারণ বিষয়।
হেলিপক্টার আবিষ্কার করেন ইগর ইভানোভিচ। কিন্তু তার আগেই ‘ক্লিপার অব দ্য ক্লাউডস’ সায়েন্স ফিকশনে বলে গেছেন বিখ্যাত লেখক জুলভার্ন।
ইগরের ভাষ্য, যে কোনো কিছুই কল্পনায় আঁকে এক ব্যক্তি আর তার বাস্তব রূপ দেয় আরেকজন।
১৮০০ সালে অ্যাডওয়ার্ড বেলামি লিখেছিলেন ‘লুকিং ব্যাকওয়ার্ড’। সেখানেই ধারণা দেওয়া হয়, ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের। সেখানে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনে মার্চেন্ট এবং কাস্টমারদের মধ্যে রিসিপ্ট ব্যবহারের কথাও উল্লেখ আছে। আদতে এখন সেটাই আমরা দেখছি।
সেরা সায়েন্স ফিকশন লেখকদের একজন হুগো গার্ন্সব্যাক। তার বই রালপ ১২৪সি ৪১+ তে সোলার অ্যানার্জির মাধ্যমে বিদ্যুট ব্যবহারের ধারণা দেওয়া হয়। যা পরিবর্তিতে সোলার প্যানেল হিসেবে দেখতে পাই। শুধু এটিই নয় এমনকি টিভি, সিনথেটিক কাপড়, স্পেস ফ্লাইট সহ অনেক কিছু সম্পর্কে তিনি ধারণা দিয়ে গেছেন এসব আবিষ্কার হওয়ার আগেই।