সেন্টমার্টিনে আরও স্থাপনা বাধা দেওয়ার কেউ নেই

দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন দ্বীপে কোনো ধরনের স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের ওপর বিধিনিষেধ থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। দিনের পর দিন কোনো না কোনোভাবে স্থাপনা তৈরি অব্যাহত রয়েছে। গত তিন বছরে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছে কিছু প্রভাবশালী মহল। এতে করে এই দ্বীপটি আগামীতে চরম হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করেন পরিবেশবাদীরা।সম্প্রতি, সেন্টমার্টিন দ্বীপে কয়েকটি পাকা দালান নির্মাণকে কেন্দ্র করে নতুন করে সংশ্লিষ্টদের নজরে আসে ব্যাপারটি। সেন্টমার্টিনের পশ্চিমপাড়া সমুদ্র সৈকতের পাশেই একটি স্থায়ী পাকা ভবনের নিচতলার নির্মাণকাজ চলছে। কাজ করছেন ৬/৭ জন শ্রমিক। স্থানীয় লোকজন জানান, ওই ভবনটি নির্মাণকাজ শেষে আবাসিক হোটেল হিসেবে চালু করা হবে। ওই পাকা দালান নির্মাণে নিয়োজিত শ্রমিক আব্দুল কাদের জানান,  প্রায় ১৫/২০ দিন ধরে এ ভবন নির্মাণের কাজ করছি। কেউ কখনো কাজে বাধা দেয়নি।’

একইভাবে পশ্চিম কোনাপাড়া সৈকতের সঙ্গে লাগোয়া ‘রিসোর্ট লাবিবা বিলাস’। সেখানেও তৃতীয় তলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছে প্রকাশ্যে। ৭/৮ জন শ্রমিক সেখানে কাজ করছেন। শ্রমিক আবু তাহের বলেন, ‘দুই তলা পর্যন্ত কাজ শেষ করে হোটেল ব্যবসা চলছে। এখন চলছে তৃতীয় তলার কাজ।’ রিসোর্টের ম্যানেজার আবদুস সালাম বলেন, ‘আমি রিসোর্ট পরিচালনার পাশাপাশি নির্মাণকাজ দেখাশুনা করি। এখন হোটেলটি তিন তলা করা হচ্ছে। আমাদের কেউ কখনো বাধা দেয়নি।’

শুধু এ দুটি স্থাপনা নয়, প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) সেন্টমার্টিন দ্বীপে অবৈধভাবে প্রতিদিন প্রকাশ্যে দিনেদুপুরে গড়ে উঠছে একের পর এক স্থাপনা। এখন সেখানে হোটেল রিসোর্ট লাবিবা বিলাস, সমুদ্র কুটিরসহ ৮/৯টি ছোট-বড় স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছে। গত তিন বছরে সেখানে অবৈধভাবে অর্ধশতাধিক স্থাপনা গড়ে উঠেছে। ১৯৯৫ সালে উপকূলীয় ও জলাভূমির জীববৈচিত্র্য রক্ষার্থে পরিবেশ অধিদপ্তর সেন্টমার্টিন দ্বীপকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুসারে সংকটাপন্ন ওই এলাকায় সরকারি অনুমোদন ছাড়া সব ধরনের ভৌত নির্মাণকাজ, নির্মাণকাজে পাথর ও প্রবাল শিলার ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও সেন্টমার্টিন দ্বীপে পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া গড়ে ওঠা সকল স্থাপনা ভেঙে ফেলতে, ভবিষ্যতে যেন পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া কোনো স্থাপনা গড়ে উঠতে না পারে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে, কাঁকড়া, শামুক, ঝিনুক, কচ্ছপসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের হাইকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে। চার সচিব, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ ১১ সরকারি কর্মকর্তাকে ২০১১ সালের ২৪ অক্টোবর এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

জানতে চাইলে সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ বলেন, বাধা দিয়েও নতুন হোটেল নির্মাণ থামানো যাচ্ছে না। প্রভাবশালীদের জন্য প্রশাসনের কর্মকর্তারাও উল্টো চাপ দেন। পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মোয়াজ্জম হোসাইন বলেন, লোকবল সংকটের কারণে কক্সবাজার শহর থেকে সেন্টমার্টিনে গিয়ে এসব তদারকি সম্ভব হচ্ছে না। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, স্থাপনা নির্মাণ যেকোনো মূল্যে বন্ধ করা হবে। সেখানে কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না।