ধাওয়া খেয়ে বনানী লেকে ঝাঁপ

৪১ ঘণ্টা পর ভেসে উঠল কিশোরের লাশ

ধাওয়া খেয়ে রাজধানীর বনানী লেকে ঝাঁপ দেওয়ার ৪১ ঘণ্টা পর কিশোর সোহাগের মৃতদেহ ভেসে উঠেছে। গতকাল বুধবার দুপুর দেড়টায় ১১ নম্বর সড়ক সংলগ্ন লেকে ভেসে উঠলে তার লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। এ সময় ঘটনাস্থলে স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

স্বজনের দাবি, ১৬ বছর বয়সী সোহাগ (১৬) পুলিশের ধাওয়ায় গ্রেপ্তার এড়াতে পানিতে ঝাঁপ দিয়েছে। পুলিশ বলছে তারা ধাওয়া করেনি। কয়েক তরুণ নেশা করছিল দেখে পথচারীরা ধাওয়া দেয়। ওই সময় অন্যরা দৌড়ে পালালেও সোহাগ পানিতে ঝাঁপ দেয়।

ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা কামরুল হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বনানীর ১১ নম্বর সড়কে আনসার ক্যাম্প সংলগ্ন লেকে এক কিশোর পড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে তাদের ডুবুরি দল সেখানে যায়। সোমবার রাতে কয়েক দফা চেষ্টা চালিয়েও তার খোঁজ মেলেনি। মঙ্গলবারও দিনভর চলে তল্লাশি। গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে সোহাগের মৃতদেহ ভেসে ওঠে।

সোহাগের বাবার দাবি, সোমবার রাতে তার ছেলে তিন বন্ধুসহ বনানী লেকপাড়ে আড্ডা দিচ্ছিল। এ সময় টহল পুলিশের একটি দল তাদের ধাওয়া দিয়ে দুজনকে আটক করে। সোহাগ গ্রেপ্তার এড়াতে পানিতে ঝাঁপ দিয়ে আর উঠে আসতে পারেনি। ধাওয়া দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বোরহানউদ্দিন রানা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অভিযোগ সত্য নয়। সোহাগের বাবা এ ধরনের কোনো অভিযোগ করেননি।’ তিনি বলেন, ‘সোহাগসহ কয়েকজন গাঁজা সেবন করছিল। এ সময় কয়েক পথচারী সেখানে কী করছে জানতে চাইলে ভয় পেয়ে দুজন দৌড়ে পালিয়ে যায় আর সোহাগ লেকে ঝাঁপ দেয়।’

সোহাগ পরিবারের সঙ্গে বনানীর কড়াইল বস্তির জামাই বাজার অংশে থাকত। তার গ্রামের বাড়ি রংপুরের পীরগাছায়। তার লাশ গ্রামে নেওয়া হবে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।