বাংলাদেশ বিমানের উড়োজাহাজ ‘ছিনতাইয়ের চেষ্টা’র ঘটনায় কমান্ডো অভিযানে নিহত তরুণের কাছ থেকে আলামত হিসেবে উদ্ধার করা সন্দেহভাজন অস্ত্রটি প্লাস্টিকের তৈরি খেলনা পিস্তল বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মামলার তদন্ত সংস্থা কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কাছ থেকে পাওয়া আলামত প্রাথমিকভাবে পরীক্ষার পর সিআইডি চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম এ তথ্য জানান। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রাথমিক পরীক্ষায় পিস্তলটি বাংলাদেশের প্লাস্টিকের তৈরি খেলনা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এরপর সেটির ব্যালিস্টিক পরীক্ষা করে বিশেষজ্ঞ মত তদন্তকারী সংস্থার কাছে দেওয়া হবে। খালি চোখে দেখলেই এটা নিশ্চিত বোঝা যাবে যে এটি খেলনা পিস্তল। এরপরও যেহেতু এক্সপার্ট ওপিনিয়ন লাগবে, সেজন্য পিস্তলের ব্যালিস্টিক পরীক্ষা হবে। দুয়েক দিনের মধ্যে আমরা এক্সপার্ট ওপিনিয়ন পাঠিয়ে দেব।’
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বিমানের উড়োজাহাজ ‘ময়ূরপঙ্খী’ (বোয়িং-৭৩৭) ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পর ছিনতাইয়ের কবলে পড়ে বলে কর্র্তৃপক্ষের ভাষ্য। পরে সেনা কমান্ডো অভিযানে পলাশ মাহমুদ নামে এক তরুণ নিহত হন। তার কাছ থেকে আলামত হিসেবে একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে যৌথবাহিনীর সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, যুবককে প্রথমে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছিল। আত্মসমর্পণ না করে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠায় একপর্যায়ে গোলাগুলির মধ্যে পড়ে আহত হয়ে মারা যায়। যুবকের কাছে একটি পিস্তল ছিল।
এ ঘটনায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্র্তৃপক্ষের (বেবিচক) শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রযুক্তি সহকারী দেবব্রত সরকার বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় নিহত যুবক পলাশ ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে পিস্তল ও বিস্ফোরকসদৃশ বস্তুসহ বেশকিছু আলামত জমা দেয় র্যাব ও সেনাবাহিনীর প্যারাকমান্ডো টিম। তবে মামলার এজাহারে গুলি করার কথা উল্লেখ নেই। তাতে বলা হয়, দুষ্কৃতকারী দুটি পটকা জাতীয় বস্তুর বিস্ফোরণ ঘটায়। তার কাছে বোমা ও অস্ত্রসদৃশ বস্তু ছিল।