ধানের কম মূল্যে দুশ্চিন্তায় হাওরের কৃষক

বীজতলার শঙ্কা কাটিয়ে সবুজ শ্যামলে ভরা এখন হিলির বিস্তীর্ণ মাঠ, আগাছা দমন ও সার প্রয়োগসহ পরিচর্যা কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন হাওরের হাজারো কৃষক। ধানের দাম কমে যাওয়ায় এবং আগাম বন্যার কথা পত্র-পত্রিকায় আসায় চিন্তিত হয়ে পড়েছেন তারা।

চাষাবাদের খরচ তুলতে পারবে কিনা সেই দুশ্চিন্তা ভর করছে তাদের মাথায়।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, কিশোরগঞ্জ হাওর অঞ্চলের একমাত্র বোরো ফসলের চাষযোগ্য সকল জমিতে বোরো ধান লাগানোর কাজ ইতোমধ্যে শেষ করেছে কৃষকেরা।

বর্তমানে পুরোদমে চলছে জমিতে ধানের আগাছা দমন ও সার প্রয়োগসহ পরিচর্যার কাজ। গেল বছর বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে জমিতে পানি সেচ দিতে কিছুটা বিলম্ব হলেও এবার এই জেলার হাওরের বোরো জমির চিত্র পুরোটাই উল্টো।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ঠিক সময়ে জমিতে পর্যাপ্ত পানি সেচ দিতে পারায় কাঙ্ক্ষিত ফসল ঘরে তুলতে পারবে বলে আশা এখানকার কৃষকদের।

তবে হঠাৎ বাজারে ধানের দাম কমে যাওয়ায় জমিতে বেশি দামে পানি সেচ, বেশি দামে মজুরি দিয়ে ধান লাগিয়ে সর্বশেষ তারা খরচ উঠাতে পারবে কিনা এ নিয়ে সংশয় এখানকার কৃষকদের মনে। তবে তাদের দাবি, সরকার যদি সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনে তাহলে ন্যায্য দাম পাবে তারা।

এদিকে পত্র-পত্রিকায় দেশে আগাম বন্যা ও শিলা বৃষ্টির আশঙ্কার কথা একাধিকবার দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় আরও চিন্তিত হয়ে পড়েছেন হাওরাঞ্চলের বোরো ধানের কৃষকেরা।

নিকলী উপজেলার সিংপুর গ্রামের কৃষক ইমন মিয়া, ছাতিরচর গ্রামের হলুদ মিয়া, দামপাড়া মদলিশপুর এলাকার চাষি মো. মিজান মিয়া বলেন, “এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমাদের ফসল অনেক ভালো হবে বলে আমি অনেক আশাবাদী। তাই আমরা রাতদিন জমিতে কঠোর পরিশ্রম করছি। তবে বাজারে ধানের দাম কমতে দেখে আমরা হতাশ হয়ে পড়েছি।”

তিনি বলেন, “পত্র-পত্রিকায় বারবার যেভাবে শিলাবৃষ্টি আর আগাম বন্যার কথা আসছে। তা যদি সত্যি সত্যি আসলে আমরা না খেয়ে মরবো।”

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “কোল্ড ইনজুরির শঙ্কা কাটিয়ে বীজতলা চারা গাছ অনেকটাই আমাদের ভালো থাকায় বোরো ধান বাম্পার ফলনের আশা করছি। আমাদের লক্ষ্য যা ছিল তা অর্জিত হয়েছে। তবে কৃষকরা যাতে ভালোভাবে ঘরে ফসল তুলতে পারে সে লক্ষ্যে আমরা কৃষি বিভাগ থেকে সার্বক্ষণিক মাঠ দেখাশোনা করছি।”