বাগেরহাটের রামপালে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে এক তরুণীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ করার অভিযোগে মামলা হয়েছে। আসামি সাহেব আলী আকুঞ্জী (৬০) রামপাল উপজেলার উজলকুড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ও ঝালবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। গত ৩ মার্চ মামলা করার পর থেকে সাহেব হুমকি দিচ্ছে বলে মেয়েটির পরিবার গতকাল বৃহস্পতিবার বাগেরহাটে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছে।
গতকাল দুপুরে বাগেরহাট প্রেস ক্লাবের জুলফিকার আলী লুলু অডিটোরিয়ামে ওই তরুণী সাংবাদিকদের বলেন, স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় প্রতিবেশী আওয়ামী লীগ নেতা সাহেব আলী আকুঞ্জীর কাছ থেকে বিয়ের প্রস্তাব পেয়ে ২০১৮ সালের ২৫ নভেম্বর তিনি স্বামীকে তালাক দেন। এরপর সাহেব আলী তাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে সোনার গহনা উপহার দেন। এরপর তিনি মেয়েটিকে প্রায়ই ধর্ষণ করতেন।
ওই তরুণী বলেন, ‘তিনি প্রভাবশালী হওয়ায় আমি এটা কাউকে জানাতে পারিনি। একপর্যায়ে আমি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ি। আমাকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে না করায় গত ৩ মার্চ আমার বাবা বাদী হয়ে বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করেছেন। এই মামলার পর সাহেব আলী ক্ষুব্ধ হয়ে আমার পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিচ্ছেন। আমি আমার অনাগত সন্তানের পিতৃপরিচয় দিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাইছি।’
ওই তরুণীর বাবা-মা সাংবাদিকদের জানান, চায়ের দোকানের রোজগার দিয়ে তাদের সংসার চলে। দরিদ্রতার সুযোগ নিয়ে সাহেব আলী তাদের বড় মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে ধর্ষণ করেছেন। মেয়েটি এখন ৩ মাসের সন্তানসম্ভবা। আদালতে মামলা করায় তিনি হুমকি দিচ্ছেন। ভয়ে তারা দোকানপাট-বাড়িঘর ছেড়ে চিতলমারীতে পালিয়ে গেছেন।
রামপাল থানার ওসি মো. লুৎফর রহমান গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ২০০৩ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইনের ৯-এর ১ ধারায় ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলাটি আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গতকাল দুপুরে এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। তদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাহেব আলী আকুঞ্জীর সঙ্গে চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি। তবে রামপাল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুর রউফ দেশ রূপান্তরকে জানান, ‘সাহেব আলী আকুঞ্জী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান কমিটির সদস্য। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্র বা অপপ্রচার কি না সেটা তদন্ত করে দেখতে পুলিশের কাছে দাবি জানাচ্ছি। দলও অভিযোগটি তদন্ত করে দেখবে, প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে।’