প্রিমিয়ার ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ

ছয় ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগপত্র

বিসমিল্লাহ গ্রুপের প্রায় ৫৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার কমিশনের বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। আসামিদের মধ্যে আটজন বিসমিল্লাহ গ্রুপের ও ছয়জন প্রিমিয়ার ব্যাংকের কর্মকর্তা। শিগগির আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য দেশ রূপান্তরকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, রাজধানীর মতিঝিল শাখার ৫৯ কোটি ১৫ লাখ ৪৭ হাজার ৪২৯ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মতিঝিল থানায় ২০১৩ সালের ২০ জানুয়ারি মামলা করে প্রিমিয়ার ব্যাংক। মামলার বাদী প্রিমিয়ার ব্যাংক মতিঝিল শাখার সাবেক ম্যানেজার ও সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. ইদ্রিস আলী ফকির। মামলার তদন্ত করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন।

যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন দেওয়া হয়েছে তারা হলেন বিসমিল্লাহ গ্রুপের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান আলপা কম্পোজিট টাওয়েলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) খাজা সোলায়মান আনোয়ার চৌধুরী, চেয়ারম্যান নওরীন হাসি, পরিচালক মো. শফিকুল আলম চৌধুরী, প্রিমিয়ার ব্যাংক মতিঝিল শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ শাহীনুর রহমান, ঋণ জালিয়াতির সময় মতিঝিল শাখার ফার্স্ট এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট এমএ রহিম (রুহুল আমিন), ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. শাহাবুদ্দিন সরদার, ফার্স্ট এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. তানজিবুল, ডেপুটি ম্যানেজার জি এম শাহাদাত হোসেন, এক্সিকিউটিভ অফিসার আবু সালেহ মো. আরিফুর রহমান। এরা সবাই এজাহারভুক্ত আসামি।

এছাড়া মামলার তদন্তকালে আসামি হিসেবে যাদের নাম এসেছে তারা হলেন বিসমিল্লাহ গ্রুপের প্রতিষ্ঠান শাহারিশ কম্পোজিট টাওয়েলস ও আলপা কম্পোজিট টাওয়েলসের পরিচালক সারোয়ার জাহান, অথরাইজড সিগনেটরি ও বিসমিল্লাহ টাওয়েলস লিমিটেডের ডিএমডি আকবর আজিজ মুতাক্কি, বিসমিল্লাহ টাওয়েলসের জিএম কমার্শিয়াল মো. আবুল হোসাইন চৌধুরী, বিসমিল্লাহ টাওয়েলসের ম্যানেজার রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ ও নেটওয়ার্ক ফ্রেইট সিস্টেমসের চেয়ারম্যান মো. আক্তার হোসেন।

দুদক জানায়, তদন্তে দেখা যায় আনোয়ার চৌধুরী নিজ কোম্পানি আলপা কম্পোজিট টাওয়েলসের অনুকূলে ২০১১ ও ২০১২ সালে চারটি এক্সপোর্ট কন্ট্রাক্টের বিপরীতে ব্যাংক টু ব্যাংক এলসি খোলেন। ওই এলসির বিপরীতে ইস্যুকৃত  ইমপোর্ট বিল বাবদ প্রিমিয়ার ব্যাংক মতিঝিল শাখা থেকে একসেপ্টেন্স গ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে ব্যাংকের ৪৭ কোটি ৮৪ লাখ ৮৪ হাজার ৬০০ টাকার দায় সৃষ্টি করেছেন। একই সঙ্গে প্যাকিং ক্রেডিট (পিসি) বাবদ ১ কোটি ৪৯ লাখ ১৯ হাজার ৯২২ টাকা গ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে প্রাপ্ত বিল অব লেডিংসমূহ জালিয়াতি করে ব্যাংকের আরও ৯ কোটি ৮১ লাখ ৪২ হাজার ৯০৭ টাকা আত্মসাৎ করেন। আসামি খাজা সোলায়মান আনোয়ার চৌধুরী, নওরিন হাসিব ও শফিকুল আনোয়ার চৌধুরী ব্যাংকে ভুয়া, নকল ও জাল চুক্তিপত্র এবং নথিপত্র দাখিল করেছেন।