গত বছর দেশের ৩ হাজার ৯১৮ নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন জানিয়ে তা বন্ধে ২০ দফা প্রস্তাব ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদসহ ৬৬টি সংগঠন। গতকাল শুক্রবার আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির ব্যানারে এসব ঘোষণা করা হয়। এতে বলা হয়, নারীকে দমিয়ে রাখার পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা থেকে সাধারণত ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া নারীরা কর্মস্থলে নিরাপত্তাহীনতা, মজুরি বৈষম্যসহ নানাবিধ শোষণ-বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। নারীর উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে নারীর প্রতি সহিংসতা কঠোর হস্তে দমনের পাশাপাশি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ প্রয়োজন।
মহিলা পরিষদের পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ৩৯১৮টি। এর মধ্যে ধর্ষণ ৯৪২, ধর্ষণের পর হত্যা ৬৩ জনকে। যৌন নির্যাতনের শিকার ১৪৬ জন। এসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়েছে ১৯ জন, অপহরণের ঘটনা ঘটেছে ১৪৫টি। পাচারের শিকার হয়েছে ৪১ নারী ও শিশু। ৪৮৮ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এই এক বছরে যৌতুকের জন্য নির্যাতিত ২১২ নারী আর হত্যার শিকার ১০২ জন। ৮৭ গৃহপরিচারিকা নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে হত্যা করা হয়েছে ৫৮ জনকে। আর নির্যাতনের কারণে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে চারজন। উত্ত্যক্ত করা হয়েছে ১৭১ জনকে, উত্ত্যক্তের কারণে আত্মহত্যা করেছে ১৪ জন। ফতোয়ার শিকার হয়েছে ১২ জন। বাল্যবিয়ে-সংক্রান্ত ঘটনা ঘটেছে ১৯৩টি। পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৯ জন।
২০ দফা ঘোষণার মধ্যে রয়েছে নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে পারিবারিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসারে ঘটনাস্থলকে মুখ্য বিবেচনা না করে ধর্ষণের মতো অপরাধের ঘটনায় জড়িতকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা। নারী ও কন্যার প্রতি নির্যাতনকারীদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া বন্ধ করতে হবে এবং যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে পাড়া-মহল্লায় গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলাসহ নির্যাতিত নারীর জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষতিপূরণ। এতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), ব্র্যাক, সেভ দ্য চিলড্রেনসহ ৬৬টি এনজিও প্রতিষ্ঠান স্বাক্ষর করে।