এলনের জন্য ডেপ-অ্যাম্বারের তিক্ততা

হলিউডের সাবেক তারকা দম্পতি জনি ডেপ ও অ্যাম্বার হার্ডের সম্পর্কে তিক্ততা এখন সবার জানা। ডেপ বিচ্ছেদের পরও স্বস্তি পাননি। একের পর এর আইনি ঝামেলায় জড়ানো হচ্ছে তাকে। মূলত ডেপ তার সাবেক স্ত্রী অ্যাম্বারকে মারধরের অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিচ্ছেদ হয়। তবে এই মারধরের বিষয় সত্যি কি না তা নিয়ে অনেক জল ঘোলা হয়েছে। তবে নতুন করে সামনে এসেছে এই মারধরের কারণ। তার জন্য দায়ী উদ্যোক্তা এলন মাস্ক। তিনি নাকি হার্ডের সঙ্গে গোপনে প্রেম করছিলেন, যা জানতে পেরে মেজাজ  হারিয়ে স্ত্রীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন ডেপ।

তার মামলার নথিতে বলা হয়, হার্ড যে সময়ের থেঁতলানো মুখ জনসমক্ষে প্রকাশ করেছেন সে সময়টা ডেপের পেন্টহাউসে স্পেসএক্স ও টেসলা প্রতিষ্ঠাতা এলোন মাস্কের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছিলেন তিনি। এ তথ্য পাওয়া গেছে একই বিল্ডিংয়ের স্টাফদের কাছ থেকে। তারা জানিয়েছেন, হার্ডের মুখে আঘাতের কোনো চিহ্নই ছিল না সে সময়।

ডেপের দাবি, বিয়ের সময় থেকেই এলন মাস্কের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল অ্যাম্বার হার্ডের। মাস্ককে গভীর রাতে ডেপের অ্যাপার্টমেন্টের গ্যারেজ ও লিফট ব্যবহার করতে দেওয়ার নির্দেশ বিল্ডিং স্টাফদের দিয়েছিলেন হার্ড। যদিও হার্ডের সঙ্গে এলোনের সম্পর্ক খুব বেশিদিন টেকেনি। কিন্তু মাস্ক জানিয়েছেন, হার্ডের বিবাহ বিচ্ছেদের পরই তাদের সম্পর্ক শুরু হয়েছিল।

সাবেক স্ত্রী অ্যাম্বার হার্ডের বিরুদ্ধে প্রায় ৫ কোটি মার্কিন ডলারের মানহানির মামলা করেছেন জনি ডেপ দিনকয়েক আগে। ২০১৬ সালে বিচ্ছেদের সময় আদালতের কাছে দুজনেই প্রতিজ্ঞা করেছিলেন- ভবিষ্যতে নিজেদের দাম্পত্য জীবন নিয়ে জনসমক্ষে কথা বলবেন না। এই প্রতিজ্ঞা ভঙ্গের কারণে মামলাটি করলেন তিনি।

গত বছরের ডিসেম্বরে ওয়াশিংটন পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের ‘আই স্পোক আট এগেইনস্ট সেক্সুয়াল ভায়োলেন্স অ্যান্ড ফেইসড আওয়ার কালচার্স র‌্যাথ’ শিরোনামে একটি প্রবন্ধ লেখেন হার্ড। সেখানে ‘পাইরেট অব দ্য ক্যারিবিয়ান’ তারকার বিরুদ্ধে তিনি লেখেন, ‘দুই বছর আগে গৃহ হয়রানির প্রতিনিধি হিসেবে পাবলিক ফিগার হয়ে উঠেছিলাম।’ তারকা ডেপের নাম উল্লেখ না থাকলেও তাকে অভিযুক্ত করে লেখা ছিল গোটা প্রবন্ধটি।

জনি ডেপ মামলার নথিতে জানিয়েছেন, সাবেক স্ত্রীর অভিযোগের কারণে প্রভাব পড়ছে তার ক্যারিয়ারে। পাইরেট অব দ্য ক্যারিবিয়ানের মূল চরিত্র ক্যাপ্টেন স্প্যারোর ভূমিকা থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।