নারীর অবমূল্যায়িত কাজকে স্বীকৃতি দিতে হবে জানিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, বাজেটের আওতায় যে সব প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে, সেগুলো তদারকি ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। নারী উদ্যোক্তাদের কাছে বেশি তথ্য পৌঁছে দিতে হবে।
মহিলা ও শিশু, শ্রম ও জনশক্তি, ভূমি, যুব ও ক্রীড়া, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘জেন্ডার বান্ধব বাজেট এবং নারীর অমূল্যায়িত কাজ’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গতকাল সোমবার রাজধানীর স্পেকট্রা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক জাতীয় সংলাপে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বাজেট বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ড. শারমিন্দ নিলর্মী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. সায়েমা হক বিদিশা প্রমুখ।
তিনি বলেন, শ্রমঘন বাজারে নারীর অংশগ্রহণ খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করে, সেইসঙ্গে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে জেন্ডার বান্ধব বাজেটের বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে চেষ্টা করা হবে। সংলাপে সুপারিশমালায় বলা হয়েছে প্রতিবন্ধী, আদিবাসী ও সংখ্যালঘু নারীকে প্রশিক্ষণ ও ভাতা দেওয়ার পাশাপাশি বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। নারী অভিবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তার দিকটি যথাযথভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। আন্তর্জাতিক মাপকাঠি মাথায় রেখে অভিবাসী শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে সাজাতে হবে। দূতাবাসগুলো নিয়মিতভাবে কম দক্ষতাসম্পন্ন নারী শ্রমিকদের নিয়মিত তদারক করবে। এসময় বাংলাদেশ সরকার নারীর অগ্রযাত্রা ও উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার লক্ষ্যে চলতি অর্থবছরে জেন্ডার বাজেট তৈরি, নারী যেন অধিকহারে শ্রমবাজারে আসতে পারে সেই নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করা ও নারীবান্ধব সেবা খাত তৈরি করতে আসন্ন বাজেটে আরও বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।