প্রকল্পের নামে গাছ কাটায় নিষেধাজ্ঞা হাইকোর্টের

প্রকল্প বাস্তবায়ন ও উন্নয়নের নাম করে দেশের সব বনাঞ্চল, বনভূমি বা সড়কে থাকা গাছ কাটার ওপর ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে হাইকোর্ট। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গাছ কাটা ও লাগানোর বিষয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা প্রতিবেদন আকারে আগামী ছয় মাসের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে। পৃথক আরেকটি রুলে প্রকল্পের নামে দেশের সব বনাঞ্চল ও বনভূমি থেকে গাছ কাটা বন্ধে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং অবশিষ্ট বন সংরক্ষণের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার শুনানি নিয়ে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ অন্তর্বর্তীকালীন এ রুল ও আদেশ দেয়। চার সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সংসদ সচিবালয়ের সচিব, পরিবেশ সচিব,  স্থানীয় সরকার সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, প্রধান বন সংরক্ষক,  মানিকগঞ্জ, কক্সবাজার ও গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ ২০  বিবাদীকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন রিজওয়ানা হাসান ও সাইদ আহমেদ কবির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মোখলেছুর রহমান। আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, বনাঞ্চল উজাড় করে একের পর এক প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। এ নিয়ে  গত বছর ১৪ আগস্ট সংবাদপত্রে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। গত ২০ ফেব্রুয়ারি প্রকল্প এবং উন্নয়নের নামে বনাঞ্চলের এবং রাস্তার পাশের গাছ কাটা বন্ধ করার জন্য আইনি নোটিস পাঠানো হয়। নোটিসের জবাব না পেয়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে রিট  আবেদন করা হয়।