ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের মঞ্চ বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্যানেল থেকে সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী নুরুল হক নুরের ওপর হামলা হয়েছে। গতকাল সোমবার ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন চলার মধ্যেই বেলা সোয়া ১২টার দিকে রোকেয়া হলের ভেতর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
তারা বলেন, সকাল ৮টায় রোকেয়া হলে ভোট শুরুর আগে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে কর্র্তৃপক্ষ ব্যালট বাক্স দেখালেও আরও তিনটি লুকানো হয়েছে দাবি করে বিক্ষোভ শুরু করে তারা। এ পরিস্থিতিতে ঘণ্টাখানেক দেরিতে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সাড়ে ১১টার দিকে আবার শিক্ষার্থীরা ভোট দেওয়া বন্ধ করে বিক্ষোভ করে। একপর্যায়ে নুর বিষয়টি নিয়ে হল কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে রোকেয়া হলের ভেতরে ঢোকেন। ভিড়ের মধ্যে নুরের ওপর হল শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেত্রী হামলা চালান। তখন তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় নুরকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, ‘ছাত্রলীগের সঙ্গে তো আমার কোনো সমস্যা নেই। ছাত্রলীগের লোকজন কেন আমার ওপর হামলা করল? আমি এর বিচার চাই।’
ওই প্যানেলের এজিএস প্রার্থী ফারুক হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা যখন সেখানে কথা বলছিলাম, তখন ওই হলের ছাত্রলীগের মনোনীত ভিপি প্রার্থী ইসরাত জাহান তন্বী ও জিএস প্রার্থীসহ ছাত্রলীগের নেত্রীরা হঠাৎ করে হামলা করেন। এ
সময় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীও সেখানে ছিলেন। এ বিষয়ে ঘটনার পরপর ছাত্রলীগের জিএস প্রার্থী গোলাম রাব্বানী সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোটা আন্দোলনের আবেগকে কাজে লাগিয়ে নুর রোকেয়া হলে প্রবেশ করে ভোটগ্রহণ কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছিল। একপর্যায়ে হলের শিক্ষার্থীরাই তাকে বাধা দিয়ে বিতাড়িত করে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জিনাত হুদা সাংবাদিকদের বলেন, ‘সেই সময় পরিস্থিতি আমার নিয়ন্ত্রণে ছিল না। কারা কী করেছে আমি জানি না।’