বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ৩০ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনের ‘ভোট ডাকাতির’ পুনরাবৃত্তি হয়েছে। গতকাল সোমবার মতিঝিলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের আইনি চেম্বারে ফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক শেষে এ অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের জানান, ঐক্যফ্রন্ট ডাকসু নির্বাচনে ‘ভোট ডাকাতির’ প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি ও সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা নতুন করে নির্বাচনের যে দাবি জানিয়েছেন, তাতে সমর্থন জানিয়েছে। ফখরুল আরও জানান, তেল-গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে আগামী মাসে জেলা ও বিভাগীয় শহরে জনসংযোগ করবে ঐক্যফ্রন্ট।
ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘আমরা দেশের কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারি, আইনের শাসন রক্ষা করতে পারি- এসব ব্যাপারে আমাদের মধ্যে মতৈক্য হয়েছে। তিনি বলেন, এখানে বিভিন্ন দল আছেন। তারাও বলেছেন, ঐক্যকে সুসংহতের বিকল্প নাই। কেননা দেশের ১৬ কোটি মানুষের যে আকাক্সক্ষা তা বাস্তবায়ন করতে হলে এই ঐক্যের শক্তি দিয়ে সম্ভব।’
মির্জা ফখরুল বলেন, সংসদ নির্বাচনের পর ডাকসু নির্বাচনে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে যে গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থাই ভেঙে পড়েছে। দীর্ঘ ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচন হওয়ায় সবার আগ্রহ ছিল। কিন্তু যে নির্বাচন হয়েছে তাতে সবাই হতাশ। ডাকসু নির্বাচনে ‘ভোট ডাকাতির’ প্রতিবাদ ও সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে এখন গণতন্ত্র অনুপস্থিত। ৩০ ডিসেম্বরের ভোট ডাকাতির নির্বাচনের প্রতি ঘৃণা জানিয়ে জনগণ প্রথম ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট দিতে যায়নি। মির্জা ফখরুল এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে সুচিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ তুলে তার জামিন দাবি করেন।
মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে নির্বাচিত সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের শপথের নিন্দা জানিয়ে ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ফখরুল বলেন, তিনি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এরই মধ্যে গণফোরাম তাকে বহিষ্কার করেছে। এখন তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের জন্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৈঠকে আরও ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী প্রমুখ।