বঙ্গবন্ধুর ছবি ছাড়া বই

আদালতে ক্ষমা চাইলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তা

‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ বইতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি না থাকা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির ঘটনায় ওই বইয়ের সম্পাদনা পরিষদের প্রধান ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা শুভঙ্কর সাহা হাইকোর্টে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর বেঞ্চে হাজির হয়ে ক্ষমা চান তিনি। আদালত কোনো আদেশ না দিয়ে পরবর্তী শুনানি ও প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৯ এপ্রিল দিন ঠিক করে। এক রিট আবেদনের শুনানির ধারাবাহিকতায় গত ১৯ ফেব্রুয়ারি তাকে তলবের আদেশ দিয়েছিল আদালত। পাশাপাশি বইটিকে বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়।

গতকাল আদালতে শুনানিতে রিট আবেদনের পক্ষে আইনজীবী এ বি এম আলতাফ হোসেন; রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আল আমিন সরকার; বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের পক্ষে আইনজীবী মো. আজিজ উল্লাহ ইমন ও শুভঙ্কর সাহার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী যোবায়ের রহমান। পরে আইনজীবী ইমন গণমাধ্যমকে বলেন, এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক অভ্যন্তরীণ নোটিস জারি করে প্রকাশিত বইয়ের সব কপি তুলে বাজার থেকে তুলে নিয়েছে। আর নতুনভাবে প্রকাশিত বইয়ে বঙ্গবন্ধুর ছবি ও বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এই বইয়ের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। বইতে বঙ্গবন্ধুর ছবি বাদ দিয়ে পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খান ও পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খানের ছবি না ছাপানোয় উষ্মা প্রকাশ করার পাশাপাশি ইতিহাস বিকৃতি ঘটেছে বলে মত দেয় তদন্ত কমিটি। বইতে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন বলে উল্লেখ থাকলেও তারিখ (২৬ মার্চ ১৯৭১) নেই। পাশাপাশি ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীনতার ইশতেহার ঘোষণার বিষয়েও বইতে উল্লেখ নেই, যা তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে। বইটিতে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক সাতই মার্চের ভাষণের কথা উল্লেখ থাকলেও ভাষণ প্রদানের স্থান রেসকোর্স ময়দানের (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) কথা উল্লেখ নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বইতে বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যবহার না করা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ এনে রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২ অক্টোবর বিচারপতি আশফাকুল ইসলামের বেঞ্চ রুল জারির পাশাপাশি বিষয়টি তদন্ত করতে অর্থ সচিবকে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়।