বুড়িগঙ্গায় নৌকাডুবি জীবিত উদ্ধার শাহজালালের মৃত্যু

ঢাকার সদরঘাটে বুড়িগঙ্গা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় একই পরিবারের ছয়জন নিহত হওয়ার পর একমাত্র আহতাবস্থায় উদ্ধার হওয়া শাহজালাল চোকদারও (৩৮) চলে গেলেন না ফেরার দেশে। গত সোমবার রাত ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়নের কিরণনগর জাফর আলী মালকান্দি গ্রামে গতকাল মঙ্গলবার সকালে শাহজালালের মরদেহ পৌঁছায়। এরপর সেখানে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার রাতে চাচাতো বোনের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শরীয়তপুরের লঞ্চের উদ্দেশে রওনা দেন শাহজালাল। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী শাহিদা বেগম (৩২), দুই সন্তান মিম (৮) ও মাহি (৬), চাচাতো বোন জামশেদা বেগম (২০), জামশেদার স্বামী দেলোয়ার হোসেন (২৮) ও তাদের সাত মাস বয়সী সন্তান জুনায়েদ। সদরঘাটে পৌঁছার আগে লঞ্চের ধাক্কায় তাদের বহনকারী ডিঙি নৌকা নদীতে ডুবে যায়। এ সময় দুই পা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় শাহজালালকে উদ্ধার করে প্রথমে মিটফোর্ড ও পরে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত রবিবার তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

দুর্ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন ওই পরিবারের বাকি ছয় সদস্য। সাঁতরে তীরে ওঠার পর পলাতক রয়েছেন মাঝি। গত শুক্রবার দুপুরে নদীতে ভেসে ওঠে জামশেদার লাশ। শনিবার বাদামতলী ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার হয় দেলোয়ার, জুনায়েদ, মিম ও মাহির মৃতদেহ। রবিবার শাহিদার লাশও ভেসে ওঠে। এরপর মারা গেলেন শাহজালালও। ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে পাশাপাশি বাসায় থাকত ওই দুই পরিবার। শাহজালাল ও দেলোয়ার দর্জির কাজ করতেন।

শাহজালালের শ্বশুর আবদুর রশিদ বলেন, ‘আমার মেয়ের পরিবারের আর কেউ রইল না। আগেই মেয়ে ও দুই নাতনিকে হারালাম। আশায় ছিলাম জামাই সুস্থ হয়ে ফিরে আসবে। সেও চলে গেল।’