একের পর এক তথ্য ফাঁস হচ্ছে মহম্মদপুর আরএসকেএইচ ইনস্টিটিউটের প্রধান শিক্ষক এ কে এম নাসিরুল ইসলামের অনিয়মের। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়টির ফান্ড থেকে তহবিল তছরুপসহ বিভিন্ন দুর্নীতির সত্যতা পাওয়ার পর এবার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সই জাল করে ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জনবল নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে গতকাল বুধবার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন মহম্মদপুর থানায় মামলা করেছেন।
সম্প্রতি মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফুর রহমান ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তে নেমে বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে ধূমপান বাবদ প্রায় ১ লাখ টাকা ব্যয় দেখানোর পাশাপাশি বিভিন্ন দুর্নীতির সত্যতা পান। এ নিয়ে গত ২০ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি দৈনিক দেশ রূপান্তরে দুটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই তদন্তের সূত্র ধরেই অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করা হলো।
মামলার বাদী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘কয়েক বছরে আরএসকেএইচ ইনস্টিটিউটের প্রধান শিক্ষক নাসিরুল নানা দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ লোপাট করেছেন। ২০১৫ সালে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সই জাল করে ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারির মাধ্যমে চারজন কর্মচারী নিয়োগ করে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করেছেন। নিয়োগপ্রাপ্তরা বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলেও চার বছর ধরে তাদের অনুকূলে বেতন বরাদ্দ দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে।’
তিনি জানান, এছাড়া প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছ থেকে চাকরি জাতীয়করণের (সরকারিকরণ) নাম করে কমপক্ষে ২৫ লাখ টাকা আদায় করেছেন। বিদ্যালয়ের ৬২টি দোকান বিধি-বহির্ভূতভাবে বরাদ্দের মাধ্যমে অর্থ নিয়ে তা অ্যাকাউন্টে জমা করেননি। চলতি শিক্ষা বছরে বিদ্যালয়টির ষষ্ঠ শ্রেণিতে ১৬০ শিক্ষার্থী ভর্তির কথা থাকলেও নাসিরুল একক সিদ্ধান্তে অবৈধ সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে অতিরিক্ত ৪৩ শিক্ষার্থী ভর্তি করেছেন। বিদ্যালয় ফান্ড থেকে গত এক বছরে ধূমপানের পেছনে ব্যয় করেছেন লক্ষাধিক টাকা। বিদ্যালয়ের দুটি অ্যাকাউন্ট যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও নাসিরুল একক স্বাক্ষরে সেখান থেকে অর্থ উত্তোলন করে তছরুপ করেছেন।
মামলার বিষয়ে মহম্মদপুর থানার ওসি রবিউল হোসেন জানান, আনোয়ার হোসেনের লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে এ কে এম নাসিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলাটি হয়েছে।
প্রসঙ্গত, মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার অন্যতম বিদ্যাপীঠটির প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুলের গাছ বিক্রি, মোবাইল ফোন কোম্পানির কাছে টাওয়ারের জন্য ভাড়া, উপবৃত্তির টিউশন ফির ২০ লাখ টাকা, জেলা পরিষদ থেকে বরাদ্দকৃত ১০ লাখসহ কোটি টাকার অর্থ তছরুপের অভিযোগ রয়েছে।