বাইরে খাওয়ার ক্ষেত্রে খাবার কতটা পুষ্টিসম্পনড়ব কিংবা স্বাস্থ্যসম্মত, তা যাচাই করার তেমন একটা সুযোগও হয়ে উঠে না অনেকের। কর্মব্যস্ত জীবনে অনেকেই অফিস কিংবা ব্যবসার কাজের তাগিদে বাসায় দুপুরের খাবার খাওয়ার সুযোগ পান না। এ ক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে হোটেল কিংবা রাস্তার পাশের ফুডকোর্টগুলো থেকে খাবার কিনে খান। ছোট-বড় হোটেল ছাড়াও রাস্তার পাশের ফুডকোর্টগুলোও এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তুলনামূলক কম দামে ফাস্টফুড ও ভাজা-পোড়া মুখরোচক সব খাবারের কারণেই এসব ফুডকোর্টের দিকে ঝুঁকছেন অনেকেই। বাইরের এসব খাবারের মান নিয়ে প্রশড়ব আছে। ঘরের বাইরের খাবারগুলো এ রকমই মানহীন হবে, তা যেন সবাই মেনেই নিয়েছেন। তবে বাইরের খাওয়ার সময় কিছুটা সাবধান ও নিয়ম মেনে চললে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি অনেকাংশেই কমানো সম্ভব। আজকাল বিভিনড়ব ক্যাটারিং সার্ভিস থেকে অফিসগুলোতে খাবার ডেলিভারি দেয়। অফিসের সবাই মিলে একটি ভালো ক্যাটারিং সার্ভিসের কাছে দুপুরের খাবার সরবরাহের দায়িত্ব দিতে পারেন। এতে ঘরোয়া পরিবেশের খাবার খুব সহজেই পেতে পারেন। এ ধরনের ব্যবস্থা যাদের অফিসে করা সম্ভব নয়, তাদের জন্য বাড়ি থেকে এয়ারটাইট বক্সে করে খাবার নিয়ে যাওয়া সবচেয়ে ভালো বলে মনে করেন পুষ্টিবিদ রিহানা ফেরদৌসী। তার মতে, বাড়ির খাবারের কোনো বিকল্প নেই। রাস্তার পাশের খাবারগুলো থেকে পেটের অসুখ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই রাস্তার পাশের এসব খাবার খাওয়া বাদ দিতে হবে। বাইরে থেকে খাবার কিনলে মোড়কজাত খাবার কেনার পরামর্শ দেন তিনি। এ ছাড়া কাজের ফাঁকে খোসাসহ ফল যেমন কমলা, মাল্টা, কলাÑ এসব ফল খেতে পারেন। এতে আপনার শরীরে পুষ্টির জোগান হবে। আজকাল অনেকেই সকালের নাশতা করতে চান না। বিশেষ করে, স্কুল- কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়পড়–য়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়। সকালে না খেয়ে থাকা একদমই ঠিক না। এতে শরীর ভেঙে পড়ে। সকালে সবচেয়ে ভারী খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদ রিহানা ফেরদৌসী। তিনি আরও বলেন, ‘দুপুরের খাবার হওয়া উচিত সকালের খাবারের চেয়ে হালকা এবং রাতে সবচেয়ে হালকা খাবার গ্রহণ করতে হবে।’ যেহেতু রাতে খাবারের পর আমরা ঘুমিয়ে পড়ি, তাই এ সময় হালকা খাবার শরীরের জন্য উপকারী। তৈলাক্ত ও রিচফুড খাওয়ার পর আমরা অনেকেই কোমলপানীয় খেতে পছন্দ করি। হজমে কিছুটা উপকার করলেও অন্যদিকে শরীরের ওজন বৃদ্ধিসহ আরও অনেক ক্ষতি করে এসব কোমলপানীয়। তাই কোমলপানীয়র পরিবর্তে লেবুপানি খাওয়া যেতে পারে। এতে একদিকে যেমন হজম ভালো হয়, অন্যদিকে শরীরে চর্বি বাড়ার কোনো আশঙ্কা থাকে না। কোমলপানীয় ছাড়াও অনেকেরই পছন্দ জাঙ্কফুড। আসলে জাঙ্কফুড কোনগুলো। পুষ্টিবিদ রিহানা ফেরদৌসী জানান, লবণাক্ত, চিনিযুক্ত ও তৈলাক্ত খাবারগুলোই মূলত জাঙ্কফুড হিসেবে বিবেচিত হয়। তরুণদের কাছে মূলত এসব জাঙ্কফুড বেশি জনপ্রিয়। তবে চাইলে জাঙ্কফুডের ক্ষতি অনেকাংশেই এড়ানো যায়। গ্রহণকৃত জাঙ্কফুডের তিন গুণ পরিমাণ সবজি খেয়ে নিলে জাঙ্কফুডের ক্ষতিকর প্রভাব শরীরে পড়ে না বলে জানান এই পুষ্টিবিদ। বয়স যাদের চল্লিশের কোটা পেরিয়ে গেছে, তাদের ক্ষেত্রে ঘরে কিংবা বাইরে খাওয়ার সময় অনেক সাবধান হতে হবে। মিষ্টানড়বজাতীয় খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। বেশি খেলেই যে সুস্থ থাকবেন, এ ধারণাও পাল্টাতে হবে। সাধারণ চালের পরিবর্তে লাল চাল খাওয়া যেতে পারে, যা শরীরের জন্য অনেক উপকারী। শুধু ভারী খাবার নয়, বাইরে পানি পানের ক্ষেত্রেও হতে হবে সাবধানী। কেননা, দূষিত পানি থেকেই মূলত ডায়রিয়া, জন্ডিস, টাইফয়েডের মতো মারাত্মক রোগগুলো আমাদের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। বাইরের লাচ্ছি, বোরহানি, ফলের শরবতÑ এগুলো যথাসম্ভব পরিহার করতে হবে। ট্যাপের পানি কিংবা খোলা ফিল্টার করা পানি খাওয়া একদমই ঠিক নয়। অল্প কিছু টাকা বাঁচাতে গিয়ে বোতলজাত পানি না কিনে অনেকেই গ্লাস হিসেবে বিμি হওয়া ফিল্টার পানি পান করে থাকেন। এসব ফিল্টার পানি সঠিকভাবে পরিশোধন না করা হলে ওই পানিবাহিত রোগ আমাদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। আবার বোতলজাত পানি মানেই যে নিরাপদ, এমন ধারণাও পুরোপুরি ঠিক নয়। আজকাল বাজারে মানহীন ও নকল বোতলজাত পানি পাওয়া যায়। তাই এসব পানি কেনার ক্ষেত্রে সচেতন থাকতে হবে।