ঘরে বসে হোমওয়ার্ক এইচআর-এর সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার আগে ভালো করে হোমওয়ার্ক সেরে নিন। যারা ওই প্রতিষ্ঠানে আগে কাজ করেছেন বা এখনো যুক্ত আছেন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনার কাজের ধারণা সেই সঙ্গে তার অনুপাতে বেতন স্কেল কেমন হওয়া উচিত, সেটি জেনে নিতে পারেন তাদের কাছ থেকে। এ ছাড়া কোম্পানি তার কর্মীদের আরও কী কী সুবিধা দেয় যেমন মেডিকেল ইন্স্যুরেন্স, পারফরম্যান্স বোনাস, প্রভিডেন্ট ফান্ড বিষয়েও জেনে নিন। এসব বিষয় জানা থাকলে বেতন নিয়ে আলোচনা করতে আপনি আরও বেশি সুযোগ পাবেন। আত্মবিশ্বাস ও আস্থা অর্জন এখন সব হোমওয়ার্ক সারা হয়ে গেল আপনার, জেনে নিলেন সব তথ্যও। এখন আপনি যা দাবি করছেন সেটি প্রকাশ করতে প্রয়োজন আত্মবিশ্বাস এবং নিজের প্রতি আস্থা। নিজের ওপরে নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এইচআর-এর সামনে আপনার দৃঢ়তা প্রকাশ পাবে না। এতে আপনার ওপরে নিয়ন্ত্রণ থাকবে এইচআর-এর। তখন এইচআর যা বলে তাই আপনাকে মেনে নিতে হবে। অতএব এইচআরের সঙ্গে আলোচনায় নিজের প্রত্যাশা অনুযায়ী বেতন আদায় করে নিতে আপনাকে থাকতে হবে নিজের এবং নিজের কাজের ওপর অটল ও আত্মনিয়ন্ত্রণ। যুক্তিযুক্ত উপস্থাপন আপনার জব প্রোফাইল নিয়ে পরিপূর্ণভাবে জানা থাকতে হবে। সিভিতে অনেক কিছুই দেওয়া থাকলেও সে সব তাৎক্ষণিক মনে থাকে না। অতএব এইচআর-এর সঙ্গে কথা বলার আগে পূর্ববর্তী কাজের অভিজ্ঞতা এবং আপনার অর্জন ও দক্ষতাসমূহের প্রতি ভালো করে মনোযোগ বুলিয়ে দিন। সে সব সুন্দর করে এইচআর-এর সামনে উপস্থাপন করুন এবং প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে গেলে আপনি আরও নতুন কী ভূমিকা রাখতে পারবেন সেটি যুক্তিযুক্তভাবে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বুঝিয়ে বলুন। কৌশলী হওয়া আপনার সব ডিম কিন্তু এক ঝুড়িতে রাখবেন না। অন্তত একটা ডিম আপনার হাতে রেখে দেওয়ার চেষ্টা করবেন। কমপক্ষে একাধিক প্রস্তাব এইচআর থেকে ভাগিয়ে আনার চেষ্টা করুন। আলোচনায় একাধিক জানালা খোলা না রাখলে তাদের প্রস্তাবই আপনি মেনে নিতে বাধ্য হবেন। একাধিক প্রস্তাব বের করে আনতে পারলে আপনার প্রত্যাশামতো বেতন আদায় করে নিতে সক্ষম হবেন। কাজ ও দায়িত্ব সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা আদায় বেতন নির্ধারণের আলোচনার সঙ্গেই বুঝে নিন আপনার দায়িত্বসমূহ। এছাড়া পুরো বছরে আপনার ছুটি কেমন হবে, কয় ঘণ্টা কাজ করতে হবে বা দিনের কোন সময়ে অফিস করতে হবে, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি কেমন হবে, কাজের স্থান কোথায় হবে, কার অধীনে কাজ করতে হবেÑ এসব বিষয়ও সুস্পষ্টভাবে জেনে নিন। পেশাদার মনোভাব সৃষ্টি পুরো আলোচনায় পেশাদারিত্ব মনোভাব বজায় রাখার চেষ্টা করুন। এমন কোনো মনোভাব থাকা উচিত নয় যাতে আপনাকে অপরিপক্ব মনে হয়। সর্বশেষে এইচআরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবেন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেন। আলোচনার অল্পসময়েই তাদের সঙ্গে উষ্ণতম সম্পর্ক গড়ে তোলাই আপনার লক্ষ্য হবে। কারণ আপনি জানেন না, আপনার সঙ্গের একই প্রতিষ্ঠানের অন্য প্রার্থীরা নিজেদের কীভাবে এইচআর-এর সামনে উপস্থাপন করছে। অতএব তাদের থেকে নিজেকে এগিয়ে নিতে এইচআরকে নিজের পক্ষেই আনতে হবে। কোন পর্যায়ে এসে বেতনের আলোচনা? বেতন নিয়ে আলোচনা কখন সারবেন? ইন্টারভিউয়ের সব ধরনের কাজের শেষ পর্যায়ে এসে এই আলোচনা তোলাই বুদ্ধিমানের কাজ। তার আগে আপনার মেধা এবং আত্মবিশ্বাস প্রমাণ করে নিন এইচআর- এর কাছে। তাদের এটি বিশ্বাস করান যে, আপনিই তাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য উপযুক্ত ও আদর্শ প্রার্থী। তখন বেতন নিয়ে আলোচনায় এগিয়ে থাকবেন আপনি। নতুন চাকরিতে উপযুক্ত বেতন আদায়ের কৌশল নতুন চাকরি শুরুর আগে বেতন কেমন হবে এ নিয়ে সবারই শঙ্কা থাকে। প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগের সঙ্গে বেতন নিয়ে আলোচনা করতে অস্বস্তিতে পড়েন অনেকেই। ‘উচ্চাকাক্সক্ষা’ হবে বলে মনে করে অনেকে নিজের দাবিটা প্রকাশ করতে চান না। শেষমেশ প্রতিষ্ঠান থেকে যেটি প্রস্তাব করা হয় সেটিই গ্রহণ করতে বাধ্য হন, যাতে ঠিকঠাক সন্তুষ্ট হওয়া যায় না। এসব বিষয়ে আগ থেকে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। চাকরি ধরে রাখতে সেই সঙ্গে উপযুক্ত বেতন আদায় করার কৌশল জানালেন রাগিব বিন হারূন কীভাবে জমাবেন মাসের শুরুতেই খাতা-কলম নিয়ে বসে পড়–ন। সারা মাসের জমা-খরচের হিসাব করুন। বিদ্যুৎ বিল, টেলিফোন বিল, যাতায়াত খরচ, ড্রাইভারের বেতন, বাড়িভাড়া, বিমা প্রিমিয়াম ইত্যাদি খরচের জন্য আগে থেকে টাকা আলাদা করে রাখুন। মাসের শুরুতেই এ খরচগুলো মিটিয়ে ফেলা ভালো। তা ছাড়া আমাদের প্রত্যেকেরই একটি না একটি দুর্বলতা থাকে। এই যেমন কেউ শপিংপ্রিয় তো আবার কেউ গেজেটপ্রিয়। হিসাব কষলে দেখা যাবে, আমাদের বেতনের কিছু অংশ এসব খাতে চলে যায়। এ ধরনের ব্যয় খাত খুঁজে বের করুন। কারণ, এটা কিছু কিছু ক্ষেত্রে অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। আপনি নিজের জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরি করুন, এটা খুব জরুরি। যেমন : ধরুন সামনের মাসে পার্টি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। বেশ ভালো কিন্তু পার্টি কোনো রেস্টুরেন্টে না দিয়ে বাড়িতেই বন্ধুদের নিয়ে হাউস পার্টি করতে পারেন। তাহলে আপনার খরচ অনেক কমে যাবে। একটু ভাবলে খরচ কমানোর এমন অপশন আপনি আরও অনেক পাবেন। যেমন : শপিংয়ের ক্ষেত্রে আপনি অনলাইনের সাহায্য নিতে পারেন। প্রায় প্রতিটি অনলাইন শপিং সাইট আপনার প্রতীক্ষায় নানা ধরনের অফার নিয়ে বসে আছে। রেস্তোরাঁ, মুভি টিকিট, ট্রাভেল টিকিট, বিউটি প্রোডাক্ট, পোশাকসহ প্রায় সবকিছুই অনলাইনে আপনি বেশ ছাড়েই কিনতে পারবেন। আমার কথা বিশ্বাস না হলে নিজেই একবার চেষ্টা করে দেখতে পারেন। এখন অনেক জায়গায় ব্র্যান্ডেড প্রোডাক্ট কিস্তির মাধ্যমে কেনার সুযোগ আছে। কোনো ইলেকট্রিক পণ্য কেনার ক্ষেত্রে এমন অপশন নিতে পারেন। কস্ট কাটিংয়ের প্রম ও প্রধান শর্ত হলো অহেতুক খরচের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া। ধরুন আপনি কোনো লোন নেবেন, এ ক্ষেত্রে একটু মাথা খাটিয়ে ব্যাংক বাছাই করুন। যেখানে সবচেয়ে লাভজনক কিস্তিতে টাকা শোধ করার সুযোগ থাকবে। আপনি সেই ব্যাংককেই বেছে নিন। তবে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখুন আয়করে বাড়তি সুবিধা পাবেন কি না। একইভাবে ছোট ছোট জিনিসের কস্ট কাটিংয়ে নজর দিন। সিনেমা দেখতে হলে মাল্টিপ্লেক্সের গোল্ড ক্লাসে দেখতে হবে এমনটা নয়, প্রয়োজনে মর্নিংশো দেখুন, কিছু খরচ বেঁচে যাবে। বন্ধুরা মিলে রেস্টুরেন্টে খেতে গেলে খরচ ভাগ করে নিন। আবার মোবাইলে যদি খুব বেশি কথা বলার অভ্যাস থাকে, তাহলে কলচার্জ কমিয়ে নিন। এখন বিভিনড়ব মোবাইল অপারেটর নানা রকমের লোভনীয় অফার দিয়েই থাকে। বিদ্যুৎ বিল বাঁচাতে অপ্রয়োজনে ফ্যান, এসি বা হিটার চালিয়ে রাখা একদম বন্ধ করে দিন। মোবাইল চার্জ হয়ে গেলে আনপ্লাগ করে নিন। যারা চাকরি করেন না হ আপনি যদি চাকরিজীবী না হন, তাহলে খরচ কমানোর সঙ্গে সঙ্গে পার্টটাইম কোনো কাজ করার চেষ্টা করুন। শখের কোনো কাজও শিখতে পারেন। যেমন : আপনার যদি রানড়বা করার শখ থাকে, তাহলে বেকিং বা কুকিংয়ের কাজ শিখতে পারেন, যা পরে আপনার আয়ের ভালো উৎস হতে পারে। হ ছোট করে হলেও কোনো হোম বিজনেস শুরু করতে পারেন। বর্তমানে এ ধরনের ব্যবসার ক্ষেত্রে ক্যাটারিং ব্যবসা বেশ জনপ্রিয়। হ এখন থেকে টাকা জমানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন। হ বাড়িতে ছাত্র পড়াতে পারেন। বিশেষ টিপস হ ইমার্জেন্সি ফান্ড সব সময় বজায় রাখুন। কুইক ক্যাশের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা মজুদ রাখুন, বিপদে এটি আপনার বন্ধুর মতো কাজে দেবে। হ μেডিট কার্ড ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ এ জন্য লেট পেমেন্ট চার্জ এবং দৈনিক সুদ দিতে হয়। হ আপনার সন্তানের কথা ভাবুন। ওর জন্য শিশুবিমা পলিসি, এডুকেশন পলিসি ইত্যাদি বিমা করে রাখতে পারেন। হ জীবন বীমা করে রাখুন। বিভিনড়ব সরকারি সংস্থা ও বেসরকারি ব্যাংক জীবন বীমা পলিসি করিয়ে থাকে। হ সোনা ও জমি কিনে রাখা দীর্ঘ মেয়াদে লাভজনক। তাই সুযোগ হলে এগুলো কিনে রাখতে পারেন। তিল তিল করে টাকা জমানোর চেষ্টা করেও কিছুতেই অবাধ্য খরচকে বশ মানাতে পারছেন না? ওপরের টিপসগুলো প্রয়োগ করে দেখতে পারেন। আমার বিশ্বাস আপনার চেষ্টা বিফলে যাবে না। আর হ্যাঁ, প্রতি মাসে কস্ট কাটিংয়ের পাশাপাশি আপনি যদি আপনার মহামূল্যবান মূলধন সঠিক স্কিমে বিনিয়োগ করেন, তাহলে আপনি অবশ্যই সফল হবেন, এ ব্যাপারে আমি গ্যারান্টি দিলাম। তাহলে আজ থেকে শুরু হয়ে যাক টাকা জমানোর এই প্রচেষ্টা ‘কস্ট কাটিং প্ল্যান’।