ঋণখেলাপিদের বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য ‘অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি’ গঠন করা হবে। যে ঋণগুলো স্বাভাবিকভাবে ব্যাংক আদায় করতে পারবে না, তা আদায় করার জন্য এ কোম্পানিকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। এতে অনেক খেলাপি ঋণ আদায় হবে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, কোম্পানি কোনো শক্তি না খাটিয়ে নিয়ম-কানুন মেনে ঋণ আদায় করবে। এটি হবে বেসরকারি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। সভায় অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ, কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির মতিয়া চৌধুরীসহ বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খেলাপি ঋণ আদায়ে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আগামী অর্থবছরের বাজেটে আমরাও এটি করতে চাই। এ ধরনের প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রেও রয়েছে। তারাও এভাবে কঠিন খেলাপি ঋণ আদায় করে থাকে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কোনো ব্যবসায়ীকে জেলে নিয়ে রাখতে চাই না। ব্যবসা মানেই ঝুঁকি, লাভ-ক্ষতি। যারা ব্যবসা করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদেরকে আস্তে আস্তে ঋণ পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হবে। তারপরও যারা পারবে না, তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত হবে। সম্পদ বিক্রি করে যে অর্থ পাওয়া যাবে তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হবে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে বিতরণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ১০ দশমিক ৩ শতাংশ।
ভ্যাটের হার কমবে : অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর করা হবে। এক্ষেত্রে নতুন ভ্যাট আইনে ভ্যাটের স্তর হবে তিনটি ৫, ৭ এবং ১০ শতাংশ। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আছে সেক্ষেত্রে কী হবে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটিকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে।
আয়কর ও করপোরেট কর কমানোর ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, করপোরেট কর যতটা সম্ভব কমানো হবে। রাজস্বে প্রধান উৎস ভ্যাট, আয়কর ও করপোরেট কর। তাই রাজস্ব আদায়ের দিকেও নজর রাখতে হবে। রাজস্ব আদায় বাড়াতে হার কমিয়ে করের আওতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, কৃষকের ক্ষতি কমিয়ে আনতে আগামী বাজেটেই কৃষকদের বিমার আওতায় আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।