ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার অভিযোগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে অনশনরত ছাত্রীদের হেনস্তার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বুধবার গভীর রাতে রাব্বানী হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ ডাকসু ও হল সংসদে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে রোকেয়া হলের ফটকে অনশনরত শিক্ষার্থীদের। তাদের দাবি, রাব্বানীর নির্দেশে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের হুমকি-ধমকি দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোলাম রাব্বানী সাংবাদিকদের বলেন, ‘হলের গেট খোলা রেখে ছাত্রীদের অবস্থানের কথা শুনে অন্য শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখানে আমি আসি। এসে দেখি, কয়েকজন মদ-গাঁজা খেয়ে এখানে আন্দোলন করছে। এই ১০-১৫ জনের কারণে অন্যদের ক্ষতি হলে সে দায় নেবে কে?’

হলটির প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জিনাত হুদা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘তারা হলের গেটের বাইরে গিয়ে অবস্থান করছেন। সেখানে হেনস্তা হওয়ার ঘটনাটি আমাদের কনসার্ন না। আমাদের কনসার্ন তাদের গেটের বাইরে থেকে হলের ভেতরে নিয়ে আসা।’

এর আগে গত বুধবার বিকেল থেকে চার দফা দাবিতে অনশন করছেন রোকেয়া হলের পাঁচ ছাত্রী। দাবির মধ্যে রয়েছে ডাকসু ও হল সংসদে পুনর্নির্বাচন, হল প্রভোস্টের পদত্যাগ, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

অনশনকারীরা হলেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের রাফিয়া সুলতানা, উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের সায়েদা আফরিন, একই বিভাগের জয়ন্তী রেজা, দুর্যোগ

ব্যবস্থাপনা বিভাগের শ্রবণা শফিক দীপ্তি ও ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের প্রমি খীসা।

অনশনকারী শ্রবণা শফিক দীপ্তি সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাতে গোলাম রাব্বানী নেতাকর্মীদের নিয়ে এসে ছবি দেখিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য করেন। একজনকে চরিত্রহীন প্রমাণের চেষ্টা করেন। আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, আমরা মদ-গাঁজা খেয়ে আন্দোলন করছি। এ ছাড়া আমাদের চিহ্নিত করে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের হুমকিও দেন তিনি।’

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, বুধবার রাত দেড়টার দিকে মোটরসাইকেলে করে ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে রোকেয়া হলের সামনে যান গোলাম রাব্বানী। গিয়েই তিনি ছাত্রীদের হলের ফটকের বাইরে অনশন করা ও তাদের সমর্থকদের অবস্থান নিয়ে মোবাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সঙ্গে কথা বলেন।

রাব্বানী বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরকে ফোনে জানান, হলের কিছু মেয়ে মধ্যরাতে গেট খুলে বাইরে অবস্থান করে অন্য শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘিœত করছেন। তিনি বলেন, ‘এরা খুব বাড়াবাড়ি করছে, স্যার। এদের সবগুলোর ফাইল দেখে চিহ্নিত করে, গার্ডিয়ান ডেকে এনে স্থায়ীভাবে একাডেমিক বহিষ্কার করেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে খোদা হাফেজ করে দেন।’

এরপর তিনি হলের গেটে দাঁড়িয়ে থাকা অনশনকারীদের কয়েকজন সমর্থককে দেখিয়ে ছাত্রলীগ নেত্রীদের প্রশ্ন করেন, ‘রাত ২টার দিকে বোরকা, নেকাব পরা এরা কারা? ছাত্রী সংস্থা? শিবিরের কর্মী? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের অবস্থান নিষিদ্ধ।’

এদিকে রোকেয়া হল সংসদে পুনর্নির্বাচন দেওয়ার এখতিয়ার হল প্রাধ্যক্ষের নেই বলে মন্তব্য করেছেন ওই হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিচার্স ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে জিনাত হুদা এ কথা বলেন। সাংবাদিকরা ছাত্রীদের হেনস্তার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার বিষয়ে আমি অবগত না। কোনো হাউস টিউটরও আমাকে অবগত করেননি।’