নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় তিন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদেরই একজন ড. আবদুস সামাদের বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলায়। লিংকন ইউনিভার্সিটির সাবেক এই শিক্ষক ডিন্স এভিনিউয়ে আল নূর মসজিদে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করতেন। ড. সামাদের মৃত্যুর বিষয়টি দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন তার ভাই এ কে এম শামসুদ্দিন।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে শামসুদ্দিন বলেন, ‘ঘটনার পরপরই আমরা নিউজিল্যান্ড থেকে মেসেজ পেয়েছি, আমাদের ভাই ড. মো. আবদুস সামাদ বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হয়েছেন। তবে আমার ভাবি ও তাদের দুই ছেলে ভালো আছেন।’
সামাদের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে তার নাগেশ্বরী পৌরসভার মধুর হাইল্যা গ্রামের বাড়িতে চলছে মাতম। ভিড় করছেন উৎসুক জনতা। স্বজনরা জানান, প্রয়াত জামাল উদ্দিনের পাঁচ সন্তানের মধ্যে সামাদ ছিলেন তৃতীয়। তার বড় ভাই আসাদ মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। অন্য দুই ভাই গ্রামের বাড়িতে থাকেন। ২০১৩ সাল থেকে সামাদ সপরিবারে ক্রাইস্টচার্চ শহরের অ্যাগলি পার্ক এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন। তিন সন্তানের জনক ড. সামাদ স্ত্রী কিশোআরা বেগম এবং দুই ছেলে তারেক রহমান ও তানভীর হাসানকে নিয়ে সেখানে থাকতেন। তার বড় ছেলে তোহা মাহমুদ ঢাকায় একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত।
কৃষিবিদ সামাদের ছোট ভাই হাফেজ হাবিবুর রহমান জানান, ‘এই হত্যাকাণ্ডের খবরে আমরা অত্যন্ত মর্মাহত। এ ঘটনার বিচার ও দ্রুত তার মরদেহ দেশে এনে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হোক।’
এদিকে ড. সামাদসহ মসজিদে গুলিয়ে চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে গতকাল বাদ আসর নাগেশ্বরী বাজারে মিছিল ও সমাবেশ করেছে ইসলামী আন্দোলন।