মোবাইল প্রেমিকার সঙ্গে কথা বলায় ৩ বন্ধু মিলে অপর বন্ধুকে খুন

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় কিশোর মোস্তাফিজুর রহমানকে (১৫) খুন করেছে তার তিন বন্ধু জীবন, লিমন ও শরীফ। অচেনা এক মেয়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলার বিরোধ নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড।

জীবন, লিমন ও শরীফ ওই মেয়ের সঙ্গে নিয়মিত ফোনে কথা বলত। কিছুদিন ধরে মোস্তাফিজও মেয়েটির সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছিল। কিন্তু বিষয়টি পছন্দ হয়নি বাকি তিন বন্ধুর। এ জন্য তারা মোস্তাফিজকে মারপিটও করেছে।

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার বিকেলে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মোস্তাফিজকে নিজ বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় জীবন। এরপর চার বন্ধু বেশ কিছু সময় ঘোরাঘুরি করে। রাত ৮টার দিকে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের মাঠে নিয়ে মোস্তাফিজকে শ্বাসরোধ ও ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আটক জীবন পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এমন স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া অফিসার) মাহবুবুল আলম।

শনিবার তিনি দেশ রূপান্তরকে জানান, ওসমানীনগর উপজেলার নিজ মান্দারুকা গ্রামের আবদুল মোছব্বিরের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান খুনের ঘটনায় তার বন্ধু একই গ্রামের আবদুর রহিমের ছেলে মো. জীবনকে (১৬) গত শুক্রবার আটক করে ওসমানীনগর থানা-পুলিশ।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে জীবন তার বন্ধু মোস্তাফিজকে হত্যা করার কথা স্বীকার করে পুরো ঘটনার বিবরণ দেয়।

জীবন পুলিশকে জানিয়েছে, মোস্তাফিজ তার বন্ধু। তাদের আরো দুই বন্ধু খুজগীপুর গ্রামের এলাইচ মিয়ার ছেলে লিমন (১৬) ও নিজ মান্দারুকা গ্রামের আবদুস সালামের ছেলে শরীফ (১৬)। তারা চার বন্ধু একসঙ্গে চলাফেরা করত।

প্রায় এক মাস আগে অপরিচিত একটি মেয়ে জীবনের মোবাইল ফোনে কল দেয়। এরপর থেকে ওই মেয়ের সঙ্গে জীবন, লিমন ও শরীফ নিয়মিত কথা বলত। কিছুদিন আগে মোস্তাফিজও মেয়েটির সঙ্গে কথা বলতে চায়। কিন্তু জীবন, লিমন ও শরীফ এতে রাজি হয়নি। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে মোস্তাফিজ ওই মেয়ের সঙ্গে কথা বলার বিষয়টি জীবনের বড় ভাইকে জানিয়ে দেবে বলে হুমকি দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা মোস্তাফিজকে মারপিট করে। এরপর জীবন, লিমন ও শরীফ তিন বন্ধু মোস্তাফিজকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

সে মোতাবেক গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মোস্তাফিজকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় জীবন। এরপর চার বন্ধু অনেকক্ষণ ঘোরাফেরা করে। রাত ৮টার দিকে মান্দারুকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে মোস্তাফিজকে ঘিরে ধরে তিন বন্ধু। মোস্তাফিজ যাতে চিৎকার করতে না পারে এ জন্য তারা গলাটিপে ধরে এবং পরে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে। এরপর শ্বাসরোধ করে এবং ইট দিয়ে মাথায়, মুখে, অণ্ডকোষে আঘাত করে তাকে হত্যা করে।

পরদিন শুক্রবার সকালে বিদ্যালয় মাঠ থেকে মোস্তাফিজের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মোস্তাফিজের মা রাসনা বেগম বাদী হয়ে ওসমানীনগর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুবুল আলম আরো জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত লিমন ও শরীফকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।