জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার মোসলেমগঞ্জ বাজারে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে দুইজন নিহত ও আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। শনিবার রাতে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন কালাই উপজেলার পুনট মোল্লা পাড়ার মৃত আব্দুস সামাদ সরদারের ছেলে আফতাব সরকার (৫৩) এবং মাইশ্বা পাড়ার চারু মোহন্তের ছেলে রতন (৪৭)।
এলাকাবাসী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ মার্চ উপজেলা নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিনফুজুর রহমান মিলন চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীকে জয়লাভ করে। তারপর থেকেই উদয়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওয়াজেদ আলী দাদার নেতাকর্মীদের সঙ্গে উপজেলা চেয়ারম্যান মিলনের নেতাকর্মীদের মধ্যে নির্বাচন পূর্ববতী বিরোধের জের ধরে প্রায় সময়ই ছোটখাটো বাকবিতণ্ডা ঘটেই আসছে।
এর ধারাবাহিকতায় শনিবার রাতে মোসলেমগঞ্জ বাজারে দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষের কথা শুনে চেয়ারম্যান মিলনসহ তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে পুনট বাজার থেকে মোসলেমগঞ্জ বাজারে গেলে ইউপি চেয়ারম্যান ওয়াজেদ আলী দাদার নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মিলন গ্রুপের দুইজন নিহত ও অন্তত ২০ জন আহত হয়।
আহতদের কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জয়পুরহাট আধুনিক হাসপাতাল ও বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, নিহতদের পরিবারে চলছে শোক। অন্যদিকে স্বজন ও এলাকাবাসীরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
এ ব্যাপারে কালাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কালাই পৌর মেয়র হালিমুল আলম জন বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কালাই উপজেলা চেয়ারম্যান মিনফুজুর রহমান মিলন ও উদয়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান ওয়াজেদ আলী দাদা দুই পক্ষের রাজনৈতিক কোন্দলে এ ঘটনা ঘটেছে।
তবে কালাই উপজেলা চেয়ারম্যান মিলন পুনট বাজার থেকে মোসলেমগঞ্জ বাজারে গিয়ে ঐ এলাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে গণ্ডগল করাটা তার একেবারেই হটকারী সিদ্ধান্ত।
কালাই থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল লতিফ খান জানান, দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।