ঢাকায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে, যাকে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী দলের সদস্য বলে দাবি করা হয়েছে। গত শনিবার গভীর রাতে বসিলা সিটি গার্ডেনের এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হান্নান (৩৫) নামে আরেকজনকে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত বাবুল (৪৩) ভোলার বোরহান উদ্দিন উপজেলার আবদুর রশীদের ছেলে। হান্নানের বাড়ি কেরানীগঞ্জে। অভিযানে পুলিশের পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক মো. শরিফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ছিনতাইয়ের অভিযোগে আগে গ্রেপ্তার হান্নানকে নিয়ে অভিযানে বের হলে বসিলায় গার্ডেন সিটির ভেতর থেকে পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। কিছুক্ষণ গোলাগুলির পর তল্লাশি চালিয়ে গুলিবিদ্ধ দুজনকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাবুলকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, ‘এই অভিযানে আমিসহ পুলিশের মোট চার সদস্য আহত হয়েছেন। দৌড়াদৌড়ির মধ্যে পড়ে আমার পা মচকে গেছে। হাতের চামড়া ছিলে গেছে। এ ছাড়া এসআই তন্ময়, এসআই সজীব ও কনস্টেবল মোতালেব আহত হয়েছেন।’

মোহাম্মদপুর থানার ওসি জি জি বিশ্বাস জানান, ঘটনাস্থল থেকে সিলভার রঙের একটি প্রাইভেটকার, ছয় রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল, চাপাতি, ছোরা ও বিভিন্ন গাড়ির নম্বরপ্লেট ও বাবুলের জাতীয় পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

তেজগাঁও জোনের উপকমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার দেশ রপান্তরকে বলেন, নিহত বাবুল ও গুলিবিদ্ধ হান্নান সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী দলের সদস্য। পেশাদার এই ছিনতাইকারী দলে আরও চারজন ছিনতাইকারীর তথ্য পেয়েছি, যাদের সবাইকে খুঁজছি। এই দলের সদস্যরা ধানমণ্ডি, মোহাম্মদপুর ও বসিলা এলাকাসহ রাজধানীজুড়ে অন্তত ১০০টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকারে চড়ে মধ্যরাত থেকে ভোররাত পর্যন্ত টানা ছিনতাই করত তারা। ছিনতাই শেষ হওয়ার পর বাবুল নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ও হান্নান সাভারের আশুলিয়ায় চলে যেত। বাকি চার সদস্যও রাজধানীর আশপাশেই থাকত।’