নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ নিয়ে শঙ্কা

চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত কর্ণফুলীর তীর ঘেঁষে ‘চিটাগাং সিটি আউটার রিং রোড’ প্রকল্পের নির্মাণকাজ ৭৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। মূল সড়কের নির্মাণকাজ চলমান থাকলেও ভূমিসংক্রান্ত জটিলতায় এখনো ফিডার (শাখা) রোডের কাজ শুরু করতে পারেনি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ (সিডিএ)। এমতাবস্থায় চলতি বছর জুনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সড়কটি যান চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সিডিএর প্রকৌশলী ও উপ-প্রকল্প পরিচালক রাজীব দাশ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রকল্পের অধীনে কর্ণফুলীর তীর ঘেঁষে ১৭ কিলোমিটার সড়ক কাম বাঁধ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এরমধ্যে ৭৫ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩০ ফুট উঁচু সড়ক ও ১১টি সøুইসগেইট নির্মাণ করা হয়েছে। সাগরের পানি যাতে বাঁধের ওপর সরাসরি আঘাত করতে না পারে সেজন্য বেষ্টনী দেয়াল ও সিমেন্টের ব্লক দেওয়া হয়েছে। এখন ফিডার রোডের কাজ চলছে। পাশাপাশি কার্পেটিংয়েরও কাজ চলছে।’

গত বুধবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কর্ণফুলীর তীর ঘেঁষে চারলেনের সড়ক নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে। সড়কে মাটি ভরাটের কাজ শেষ হলেও এখনো পিচ-ঢালাই হয়নি। রাসমনিঘাট এলাকার টোলরোড হয়ে নির্মাণাধীন পতেঙ্গামুখী রিংরোডে এখনো সড়কের মাটি ভরাটের কাজ চলছে। আইসি ব্রিজ-২ এর আবদুল্লাহ পাড়া এলাকা থেকে আনন্দবাজার মাটি ভরাট ও কার্পেটিংয়ের কাজ চলছে। প্রকল্পের অধীনে রাসমনিঘাট থেকে ফৌজদারহাটমুখী নির্মাণাধীন রিংরোডে এখনো মাটি ভরাটের কাজ চলছে।

রিংরোড প্রকল্পের কাজ নিয়ে ফরহাদ নামে স্থানীয় একজন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কর্ণফুলীর পাড় হয়ে বিশাল সড়ক নির্মিত হচ্ছে। এই সড়কটি হলে এখানকার যাতায়াত ব্যবস্থা পাল্টে যাবে। তবে নির্মাণকাজ হচ্ছে ঢিমেতালে। আরও গুরুত্ব দিয়ে করলে ভালো হতো। পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত যেভাবে নির্মাণকাজ চলছে, তাতে মনে হয়, নির্মাণকাজ শেষ হতে আরও বছরখানেক সময় লাগবে।’   

নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক ও সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী হাসান বিন শামস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মূল সড়কের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। কিছু অংশে কাজ বাকি আছে। এরই মধ্যে মাটি ভরাট হয়ে গেছে। তাই বাকি অন্যকাজে তেমন সময় লাগবে না। জুনের মধ্যেই মূল সড়কের নির্মাণকাজ শেষ হয়ে যাবে।’

ভূমি সংক্রান্ত জটিলতায় নির্মাণাধীন রিংরোডের সঙ্গের ফিডার রোডের নির্মাণকাজ শুরু না হওয়ার কথা স্বীকার করে প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘জটিলতা নিরসন হওয়ার পথে। আশা করি, জুনের মধ্যেই ফিডার রোডেরও কাজ শুরু করাতে পারব।’

২ হাজার ৪২৬ কোটি ১৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ২০১৬ সালের জুলাইয়ে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার দিচ্ছে ১ হাজার ৭২ কোটি ১১ লাখ ৮০ হাজার ও জাইকা দিচ্ছে ৭০৬ কোটি টাকা। প্রকল্পটির কাজ ২০১৯ সালের জুন নাগাদ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা ধরা আছে।

প্রকল্পটি নগরের দক্ষিণ কাট্টলী থেকে সংযোগ রোডের মাধ্যমে স্টেডিয়ামের পাশ দিয়ে সাগরিকায় পোর্ট কানেকটিং রোড ও পতেঙ্গা থেকে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণাধীন টানেলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এজন্য সাগরিকা অংশে একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। ফিডার রোডের পাশাপাশি সড়ক পারাপারে থাকবে ১০টি ওভারব্রিজ।