গত আসরেই পাঁচ গোল করে হয়েছিলেন তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা। গেল অক্টোবরে প্রথম সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশকে শিরোপা জিতিয়েছিলেন সর্বোচ্চ সাত গোল করে। লাল-সবুজ জার্সিতে গত দুই বছর নিয়মিতই জ¦লে ওঠা সিরাত জাহান স্বপ্না এবার যেন খানিকটা মøান। বিরাটনগরে খেলা দুটি ম্যাচে এখনো পাননি গোলের দেখা। গোলখরা কাটাতে ২০ মার্চ সেমিফাইনালকেই পাখির চোখ করেছেন তিনি।
গত আসরে বাংলাদেশের দুই স্ট্রাইকার সাবিনা খাতুন ও স্বপ্না মিলে করেছিলেন ১১ গোল। অথচ এবার সাফ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপে গ্রুপের দুই ম্যাচে বাংলাদেশ করেছে মাত্র দুই গোল। ভুটানের বিপক্ষে সাবিনা গোল পেলেও মøানই ছিলেন স্বপ্না। নেপালের বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচে অবশ্য চেষ্টার কমতি ছিল না তার। রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলা বাংলাদেশ স্বপ্নাকে সামনে রেখে সাজিয়েছিল রণ পরিকল্পনা। ১৮ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকারের সবচেয়ে বড় শক্তির দিক গতি। নেপালের অর্ধে লম্বা বল ফেলে স্বপ্নার গতিটাকেই কাজে লাগাতে চেয়েছিল বাংলাদেশ। নেপালের অভিজ্ঞ রক্ষণের সঙ্গে পাল্লাও দিতে হয়েছে তাকে সমান্তরালে। কিন্তু কাক্সিক্ষত গোলের দেখা পাননি। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে দারুণ একটা প্রচেষ্টা ক্রসবারে লেগে ফিরলে দলের মতো তাকেও থাকতে হয়েছে গোলহীন।
গোল করাই যার কাজ, সেটাই যদি করা না যায় তাতে কি স্বস্তি মেলে? কদিন ধরে তাই স্বস্তিতে নেই স্বপ্নাও। গতকাল দারুণ একটা সুসংবাদ পেয়েছেন রংপুর থেকে উঠে আসা এই মেয়ে। গতবারের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য তিনি মনোনীত হয়েছেন বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের উদীয়মান ক্রীড়াবিদ হিসেবে। কিন্তু সেই প্রাপ্তির সংবাদেও যেন শান্তি মিলছে না। হোটেল লবিতে বসে তাই গোলখরা কাটানোর সংকল্পের কথাই শোনা গেছে তার মুখে।
‘আসলে চেষ্টা তো করছি। কিন্তু গত দুই ম্যাচে হয়নি। নেপালের বিপক্ষে ম্যাচটা তো দেখলেন, বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শটটা কিপারকে পরাস্ত করলেও গিয়ে লাগল ক্রসবারে। গোল না পাওয়া নিয়ে স্যারদের (কোচ) সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা বলেছেন, চেষ্টা কর, হয়ে যাবে। সেমিফাইনালেই সেটা করে দেখাতে চাই।’ তবে ভারতের মতো অভিজ্ঞ দলের বিপক্ষে কাজটা যে সহজ হবে না সেটাও বললেন দশম শ্রেণির এই ছাত্রী, ‘ভারত অনেক অভিজ্ঞ দল। তাদের বিপক্ষে গোল করা মোটেই সহজ নয়। তবে আমরা গত দুই বছর ধরে অনেক পরিশ্রম করেছি। বিশ্বাস আছে এর ফল নিশ্চয় পাব সেমিফাইনালে।’ সুবিধাবঞ্চিত পরিবার থেকে উঠে এসে নিজের প্রচেষ্টায় বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন স্বপ্না। এখন ভারতের বিপক্ষে দলকে জিতিয়ে গোটা জাতির মুখে হাসি ফোটাতে চান তিনি।