নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরে মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত চাঁদপুরের মোজাম্মেল হক সেলিমকে তার বাবার কবরের পাশে দাফন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবারের সদস্যরা। যত দ্রুত সম্ভব মোজাম্মেলের মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন তারা। গতকাল সোমবার মোজাম্মেলের মা জামিলা খাতুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার মানিকের লাশ আমার কাছে ফিরায়ে দেওয়া হউক। আমার মোজাম্মেলের মুখটা দেখে যেন তাকে মাটি দিতে পারি। সরকার যেন দ্রুত সেই ব্যবস্থা করে দেয়।’
মোজাম্মেলের মেজো ভাই শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘আমার ভাইয়ের মরদেহ আনতে আমি পরিবারের পক্ষ থেকে নিউজিল্যান্ড যেতে চাই। এ জন্য ইউএনওর কাছে আবেদনও করেছি। লাশ দেশে আনার পর বাবার কবরের পাশেই আমার ভাইকে দাফন করতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘ব্যাংকে অনেক টাকা ঋণ করে ভাইকে পড়াশোনা করতে বিদেশ পাঠানো হয়েছিল। ঋণ শোধ না হওয়ার আগেই সে সন্ত্রাসীর গুলিতে মৃত্যুবরণ করল। এখন সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ সরকার যেন আমাদের এই ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত করতে সহায়তা করে।’
জানতে চাইলে মতলব দক্ষিণ উপজেলার ইউএনও শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়েই গতকাল (রবিবার) বিকেলে আমি মোজাম্মেলের বাড়িতে যাই। তার মরদেহ দেশে আনার ব্যাপারে আমাদের কার্যক্রম চলছে। যেহেতু বিষয়টি নিউজিল্যান্ড সরকারের হাতে, তাই তাদের কাছ থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পরই মোজাম্মেলের মরদেহ আনতে তার পরিবারের সদস্যরা সেখানে যেতে পারবে।’
মোজাম্মেল মতলব দক্ষিণ উপজেলার খাদেরগাঁও ইউনিয়নের হুরমাইশা গ্রামের মৃত হাবিব উল্লাহ মিয়াজীর ছেলে। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন তিনি। ঢাকার মার্কস ডেন্টাল মেডিকেল কলেজ থেকে ‘বিএসসি ইন ডেনটিস্ট’ ডিগ্রি শেষে উচ্চতর শিক্ষার জন্য ২০১৫ সালে নিউজিল্যান্ড যান তিনি। সেখানে ক্রাইস্টচার্চ শহরের একটি মেডিকেল কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন কাজ করতেন মোজাম্মেল।