সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) চূড়ান্ত অনুমোদন পাচ্ছে। আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) সভায় ১ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকার সংশোধিত এডিপি অনুমোদিত হচ্ছে। বছরের শুরুতে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকার কোটি টাকার এডিপি প্রণয়ন করা হয়েছিল। এ হিসাবে উন্নয়নে মোট বরাদ্দ কমছে ৮ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত এডিপির মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ও প্রকল্প সহায়তা হিসেবে বিদেশি উৎস থেকে ৫১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হবে। পরিকল্পনা কমিশন বলছে, নির্বাচনের আগে বড় প্রকল্পগুলোতে বিশাল বরাদ্দ ব্যয় করতে না পারায় বছরের মাঝপথে প্রকল্পের বরাদ্দ কাটছাঁট করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চলতি অর্থবছরের এডিপিতে ৮ মেগা প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ৩৩ হাজার ১৫৮ কোটি টাকা, যা সংশোধিত এডিপিতে কমে ২৪ হাজার ৩৮৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। বড় প্রকল্পের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা পদ্মা সেতু প্রকল্পে বরাদ্দ কমছে ১৭৩৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। বছরের শুরুতে এতে বরাদ্দ ছিল ৪৩৯৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। আরএডিপিতে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ২৬৫৬ কোটি টাকা।
চলতি বছর মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। প্রকল্পটিতে এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১৭ হাজার ৯০৩ কোটি ৩ লাখ টাকা। শতকরা হিসাবে বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে ৫৯ ভাগের বেশি। পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে এবার সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এবার ৫ হাজার ৩৩০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও নভেম্বর পর্যন্ত মাত্র সাড়ে ৩৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। বাস্তবায়নে গতি না আসায় বরাদ্দ নামানো হচ্ছে ৩ হাজার ২৯০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।
আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে বরাদ্দ কমছে ১ হাজার ৯২০ কোটি টাকা। প্রকল্পটিতে ২ হাজার ২২৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও ব্যয় হয়েছে মাত্র ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। ফলে বরাদ্দ নামিয়ে আনা হচ্ছে ৩০৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকায়। ঢাকায় মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্পের বরাদ্দ ২ হাজার ৪৮৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকায় নামিয়ে আনা হচ্ছে। প্রকল্পটিতে শুরুতে বরাদ্দ ছিল ৩ হাজার ৯০২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৯১৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। ফলে বরাদ্দ কমানো হচ্ছে ১ হাজার ৪১৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।
দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পে ১ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৭৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এ অবস্থায় আরএডিপিতে বরাদ্দ নামানো হচ্ছে ৫২৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকায়। বরাদ্দ কমছে ৯২৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
এর বাইরে কর্ণফুলী টানেল নির্মাণে বরাদ্দ ২৭২ কোটি ৯২ লাখ টাকা বাড়ছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে ২১৪ কোটি ১২ লাখ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ১১ হাজার ৩১৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ প্রকল্পে বাড়তি দেওয়া হচ্ছে ৭৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। তিন প্রকল্পে বাড়তি দেওয়া হবে ৫৬৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা।