পাহাড়ে সাঁড়াশি অভিযানের মধ্যে আ.লীগ নেতা খুন

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় ব্রাশফায়ারে নির্বাচনী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নৃশংসভাবে হত্যার ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই গতকাল মঙ্গলবার বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরেশ কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কেংড়াছড়ি ইউনিয়নের আলিক্ষ্যং এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ ইকবাল জানিয়েছেন। এসব ঘটনায় পাহাড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গোটা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি। ভীতিবিহ্বল সেখানকার মানুষ। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারে চলছে মাতম।

এ ঘটনার জের ধরে আধিপত্য বিস্তারে আরও সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সন্ত্রাসীদের ধরতে চলছে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও আনসারের সমন্বয়ে সাঁড়াশি অভিযান।

বাঘাইছড়ি হত্যাকা-ের ঘটনার প্রতিবাদ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আজ খাগড়াছড়িতে হরতাল ডেকেছে পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ। রাঙ্গামাটিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ডেকেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ।

গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। কাউকে গ্রেপ্তারও করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে ঘটনার তদন্তে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশন। গত সোমবার রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলা

 পরিষদেও নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষে নির্বাচনী সরঞ্জাম নিয়ে ফিরছিলেন নির্বাচনী কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। বিজিবির প্রহরায় দীঘিনালা-বাঘাইছড়ি সড়কের নয়মাইল এলাকায় তিনটি চাঁদের গাড়িতে থাকা এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর ব্রাশফায়ার করে সন্ত্রাসীরা। এ সময় চালক গাড়ি না থামিয়ে দ্রুতগতিতে গাড়িটি বাঘাইছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে গাড়ি থেকে নামানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা ছয়জনকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে আহত একজন চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যান। এ সময় চার পুলিশ সদস্যসহ প্রায় ২৭ জন আহত হন। নিহত ও আহতরা সবাই নির্বাচনের দায়িত্বে ছিলেন।

নিহতরা হলেন বাঘাইছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা তৈয়ব আলী, কাচালং গার্লস স্কুলের শিক্ষক ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা শিক্ষক আমির আলী (৪০), আনসার-ভিডিপি ইউনিয়ন লিডার বিলকিস আক্তার (৪০) ও ভিডিপি দলনেতা মিহির কান্তি দত্ত (৪০), আনসার ভিডিপি সদস্য মো. আল আমিন (১৭) ও জাহানারা বেগম এবং গাড়ির হেলপার মন্টু চাকমা (২৭)।

আমাদের চট্টগ্রাম ব্যুরো এবং রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি প্রতিনিধিরা এসব তথ্য জানান।

‘এ এক ভয়াবহ বীভৎস অভিজ্ঞতা’

‘ফলাফল ঘোষণার পর একটি চাঁদের গাড়িতে গাদাগাদি করে আমরা প্রায় ২৫ জন বাঘাইছড়ির উদ্দেশে রওনা দিই। গাড়িতে প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার, পুলিশ-ভিডিপিসহ সবাই ছিলাম আমরা। আমাদের গাড়ি বাঘাইহাট পৌঁছানোর পর সেখানে আমাদের অপেক্ষায় থাকা অন্য দুটি কেন্দ্রের নির্বাচনকর্মীরা আরও দুটি চাঁদের গাড়ি নিয়ে বহরে যোগ দেয়। বিজিবির টহল গাড়িসহ মোট চারটি গাড়ি বহরে। সামনেই ছিল বিজিবির একটি গাড়ি। ঠিক পেছনেই আমাদের গাড়িটি। গাড়িগুলো নয়মাইল এলাকায় পৌঁছানোমাত্রই পাশের উঁচু পাহাড় থেকে গাড়িবহর লক্ষ্য করে গুলি আসতে থাকে। গুলি উপেক্ষা করে আমাদের সব গাড়ির চালক ছুটতে থাকেন। তারা না থেমে দ্রুত চলে আসেন সরাসরি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এ এক ভয়াবহ বীভৎস অভিজ্ঞতা।’

এতটুকু বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন মৃত্যুর কাছ থেকে ফেরত আসা পোলিং অফিসার ইয়াসমিন আক্তার। রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার মুসলিম ব্লক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তিনি। গত সোমবার রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে সন্ত্রাসী হামলার শিকার গাড়িবহরে ছিলেন। নিজে বেঁচে গেলেও কাছের মানুষদের হারানোর বিষয়টি তিনি সহ্য করতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘এ এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা! আমার সহকর্মী আমির হোসেন ও তৈয়ব আলী মারা গেছেন। বান্ধবী কাঞ্চি, বড় ভাই বদিউজ্জামান গুরুতর আহত। আহত-নিহত সবাই কমবেশি পরিচিত।

ওই গড়িবহরে ছিলেন মাচালং কেন্দ্রে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার বাহিনীর সদস্য হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমি মাচালং কেন্দ্রে ভোটের দায়িত্বে ছিলাম। এক পক্ষ ভোট বর্জন করেছিল, এতে আমাদের কেন্দ্রে তেমন একটা ভোট পড়েনি। ২ হাজার ৭০০ ভোটের মধ্যে ভোট পড়েছিল মাত্র ৬৮টা। সারা দিন ভোটারবিহীন নির্বাচন শেষে বিকাল চারটার দিকে ভোটের বাক্স খোলা হয়। এরপর পাঁচটার দিকে আমরা বের হয়ে যাই। পরে সাজেকের কংলাক থেকে আসা অন্য টিমের সাথে আমরা যোগ দিই। নয়মাইল এলাকায় আসার সাথে সাথে প্রচ- রকম গুলির আওয়াজ শুনে আমরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ি। গুলির আওয়াজে আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ি। পরে যখন হুঁশ আসে, দেখি আমি হাসপাতালে। চারদিকে মানুষের আহাজারি, রক্ত।’

ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ হস্তান্তর

নিহত সাতজনের মধ্যে ছয়জনের লাশ খাগড়াছড়ি হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল সন্ধ্যায় বাঘাইছড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। রাঙ্গামাটি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছুফিউল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, ময়নাতদন্ত শেষে লাশ তাদের পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, একের পর এক হত্যাকা-ে আমরা বেশ চাপের মধ্যে রয়েছি। আমরা চেষ্টা করছি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য। তিনি জানান, এখনো থানায় মামলা হয়নি। মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে।

চলছে সাঁড়াশি অভিযান

গত সোমবারের ঘটনার পর গোটা পাহাড়েই আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে, বাঘাইছড়ি উপজেলা এবং এর আশপাশের এলাকার মানুষ ভীষণ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। সাধারণ জনগণ খুব বেশি প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া বাসার বাইরে যাচ্ছেন না। তারা মনে করছেন, হামলার সঙ্গে যুক্তরা আধিপত্য বিস্তারে আবারও সন্ত্রাসী হামলা চালাতে পারে।

ঘটনার পর সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও আনসারের সমন্বয়ে কম্বিং অপারেশন চালানো হচ্ছে। তবে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার সকালে খাগড়ছড়ি ব্রিগেডের অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার হামিদুল হক, রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশীদ, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপরাধ) মো. আবু ফয়েজ ও পুলিশ সুপার আলমগীর কবির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তারা আহতদের খোঁজখবর নেন।

এ সময় খাগড়াছড়ি ব্রিগেডের অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার হামিদুল হক জানান, ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলের আশপাশে কম্বিং অপারেশন শুরু হয়েছে। সন্ত্রাসীরা হয়তো ঘটনার পর পালিয়ে যেতে পারে। তবে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে। নিরাপত্তা বাহিনী সন্ত্রাসীদের অবস্থানে অভিযান চালাচ্ছে। তিনি বলেন, এটা একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এই ঘটনায় আতঙ্কের কিছু নেই। সন্ত্রাসীদের এমন কোনো শক্তি নেই যে তারা ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের হামলা চালিয়ে যাবে। তিনি সাধারণ মানুষকে ভীত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, আইনশৃঙ্খলা সম্পূর্ণ নিরাপত্তা বাহিনীর অধীনে আছে। উদ্বেগের কিছু নেই।

রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, ‘পাহাড়ি এই এলাকায় সন্ত্রাসীরা যেকোনো জায়গা থেকে অ্যামবুশ করতেই পারে। তবে আমাদের নিরাপত্তায় কোনো ঘাটতি ছিল না। চোরাগোপ্তা হামলা করে তারা পালিয়ে গেছে। সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা কোনো শৈথিল্য দেখাব না।’

পুলিশ সুপার আলমগীর কবির বলেন, ‘সার্বিক পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা এলাকায় টহল দিচ্ছে।’ অভিযান বিষয়টি গোপনীয় বিষয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এখনই এই বিষয়ে কিছু বলতে চাই না।’

৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

বাঘাইছড়ির ঘটনার তদন্তে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশন। গতকাল গঠিত এই তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত সচিব ও স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক দীপক চক্রবর্তী ও সদস্য সচিব রাঙ্গামাটির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। এ ব্যাপারে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল মান্নান দেশ রূপান্তরকে বলেন, এই কমিটি ১০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে।

আজ হরতাল ও বিক্ষোভ সমাবেশ

এ ঘটনার প্রতিবাদ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ বুধবার খাগড়াছড়িতে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ। রাঙ্গামাটিতে সকাল ১০টায় ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ডেকেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ।

নিহতদের পরিবার ২০ হাজার ও আহতদের ১০ হাজার টাকা

গতকাল দুপুরে বাঘাইছড়ি জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ছিলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপরাধ) মো. আবু ফয়েজ, মো. পুলিশ সুপার আলমগীর কবির, জেলা আনসার কমান্ডার আবদুল আওয়াল, বাঘাইছড়ি ১১ আনসার ব্যাটালিয়নের সিও রুবায়েদ বিন সালাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদিম সারওয়ার, মেয়র জাফর আলী খানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এ সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহতদের প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার টাকা এবং নিহত পরিবারকে ২০ হাজার করে টাকা দেওয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন।

ইউপিডিএফের নিন্দা

বাঘাইছড়ি ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই ইউপিডিএফ ঘটনার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন। ইউপিডিএফের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব চাকমা স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, ‘ঘটনাস্থল ইউপিডিএফ-সমর্থক অধ্যুষিত হওয়ায় কোনো কোনো সংবাদমাধ্যম ও একশ্রেণির গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক দলটিকে সন্দেহের তালিকায় যুক্ত করায় ইউপিডিএফ ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিবেচনাপ্রসূত মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিলাইছড়ি উপজেলা আ.লীগের সভাপতিকে গুলি করে হত্যা : বিলাইছড়ি থানার ওসি মো. পারভেজ আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, রাঙ্গামাটি হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে পরিবারের কাছে সুরেশ কান্তির মরদেহ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিকেল পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুছা মাতব্বর হামলার জন্য সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে (জেএসএস) দায়ী করেছেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে শহরে বিক্ষোভ মিছিল হবে এবং কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে জেএসএসের জেলা সম্পাদক নীলোৎপল খীসা বলেছেন, ‘আমরা এ ধরনের রাজনীতির চর্চা করি না। এসব ঘটনার সঙ্গে আমাদের জড়ানোর চেষ্টা চলছে। এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার হীনপ্রচেষ্টা।’

সুরেশ কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়সেন তঞ্চঙ্গ্যার পক্ষে নির্বাচনী কাজের দায়িত্বে ছিলেন। নির্বাচনে জেএসএসের প্রার্থী বীরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যার কাছে পরাজিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী।

ঘটনার সময় সুরেশ কান্তির সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী ও ছেলে নিরুপম তঞ্চঙ্গ্যা। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি মা, বাবাসহ আরও চারজন বোটে করে নির্বাচন শেষে ফারুয়া থেকে উপজেলা সদরে ফিরছিলাম। আমি আর বাবা গল্প করতে করতেই আসছিলাম। হঠাৎ দেখলাম বোটম্যান বোট থামিয়ে দিল, আমরা তাকে জিজ্ঞেস করলাম, কী হলো, বোট থামালে কেন? তখন সে উত্তর দিল, পেছন থেকে কারা ডাকছে।

আমি তাকে বললাম থামতে হবে না, তুমি বোট চালিয়ে যাও। তখন সে বলল, বোট না থামালে ওরা গুলি করবে বলছে। এরপর অস্ত্রধারী তিনজন এসে মাকে লাথি দিয়ে পানিতে ফেলে দিল। আমাকে আর বাবাকে ওপরে তুলে নিয়ে আমার মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে রাখে এবং আমার বাবার কপালে ও পেটে গুলি করে চলে যায়। মাত্র ৪ মিনিটের মধ্যে এমন একটি ঘটনা ঘটে গেছে।

এটাকে ‘রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড’ দাবি করে সুরেশের ছেলে বলেন, ‘আমার বাবা গত ১৮-১৯ বছর ধরে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। সবার সঙ্গে উনার সুসম্পর্ক। তবু কেন তারা আমার বাবাকে হত্যা করল আমরা বুঝতে পারছি না। আমার বাবা বটগাছের মতো পুরো উপজেলাকে ছায়া দিয়ে রেখেছিলেন, কিন্তু এখানেই আমার বাবাকে খুন হতে হলো।’