পর্যবেক্ষণকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার সুপারিশ

গত ১১ মার্চ অনুষ্ঠেয় ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করেছে ঢাবি প্রশাসন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক অননুমোদিতভাবে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ ও প্রচারমাধ্যমে নির্বাচন সম্পর্কে অসত্য তথ্য এবং বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করেছেন

বলে দাবি করে এসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঢাবি উপাচার্যের কাছে দাবি করেছে প্রাধ্যক্ষ কমিটি। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে এক সভা হয়। ওই সভায় এমন অভিমত ব্যক্ত করেন প্রাধ্যক্ষরা।

গতকাল বিকেলে ঢাবির জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মাহমুদ আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন সব হলে সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক রীতিনীতিতে হয়েছে বলে দাবি করেন বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষরা।

পর্যবেক্ষণকারী দলের অন্যতম সদস্য এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ফাহমিদুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আমরা স্বেচ্ছাসেবামূলক পর্যবেক্ষণের জন্য লিখিতভাবে অনুমোদন চেয়েছিলাম। তিনি মৌখিকভাবে আমাদের অনুমতি দিয়েছিলেন। আর আমরা যা দেখেছি, তাই জানিয়েছি। মিডিয়ায় যেমন রিপোর্ট হয়েছে, তার সঙ্গেও আমাদের পর্যবেক্ষণের মিল রয়েছে। বেশ কয়েকটি প্রার্থী প্যানেল একইরকম কথা বলেছে। প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটি যদি ওরকম মনে করেন, সেটা তাদের ব্যাপার। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় একটি বড় প্রতিষ্ঠান, তার ভাবমূর্তি সহজে বিনষ্ট হয় না বলেই আমরা মনে করি।’

সভার বরাত দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এক গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে কতিপয় বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে অশান্ত ও অস্থিতিশীল করার হীনপ্রয়াসে কোনো কোনো মহল লিপ্ত হয়েছিল। সভায় প্রায় তিন দশক পর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অসত্য উস্কানিমূলক তথ্য পরিবেশন ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সব মহলকে আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি তাদের দায়িত্বশীল আচরণের প্রতি যতœশীল থাকার অনুরোধ জানানো হয়। এছাড়া বিশ^বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রাধ্যক্ষরা উপাচার্যের কাছে জোর দাবি জানান।

সভায় প্রাধ্যক্ষরা বলেন, সব হলে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন সার্বিকভাবে সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক রীতিনীতিতে অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া যে দুয়েকটি বিচ্ছিন্ন ও অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছিল সেসব তাৎক্ষণিকভাবে নিরসন করে কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অনেক প্রার্থী ভোটার-শিক্ষার্থীরা নির্বাচন চলাকালে এবং নির্বাচনোত্তর সময়ে সততা, আন্তরিকতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে দীর্ঘ প্রায় তিন দশক পর ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের এক বিরাট কর্মযজ্ঞ আয়োজনের জন্য সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং প্রাধ্যক্ষ, আবাসিক শিক্ষক ও সংযুক্ত শিক্ষকরাসহ দায়িত্বরত সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

ভোটের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, ধৈর্যশীল আচরণ এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখাসহ তারা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সভায় সেসবের ভূয়সী প্রশংসা করেন সভায় উপস্থিতজনরা। উপস্থিত ভোটারদের কেউ ভোট দিতে পারেননি বা কারও ভোট অন্য কেউ দিয়েছেন বা কেউ ভোট দিতে বাধাপ্রাপ্ত বা হেনস্তার শিকার হয়েছেন এমন কোনো অভিযোগ তারা পাননি বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী শনিবার (২৩ মার্চ) সকাল ১১টায় নবনির্বাচিত ডাকসু ও একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হল সংসদ কার্যকরী পরিষদের সভা হবে। ওই সভায় ডাকসু ও হল সংসদের নবনির্বাচিত কার্যকরী পরিষদের সদস্যদের পরিচিতি ও শুভেচ্ছা বিনিময় এবং দায়িত্বভার গ্রহণসহ পরবর্তী কার্যক্রমের বিষয়ে আলোচনা হবে।

এদিকে গতকাল ঢাবির জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো অন্য এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাবির ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামকে ডাকসু-২০১৯-এর কোষাধ্যক্ষ হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।