এসএমপি হিসেবে গ্রামীণফোনের বিধিনিষেধ বাড়ছে

দেশের শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনকে ‘তাৎপর্যপূর্ণ বাজার ক্ষমতাধর’ বা সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার (এসএমপি) হিসেবে ঘোষণা

করে যে চারটি শর্ত আরোপ করা হয়েছিল, গতকাল তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন করে ২০টি ক্ষেত্রে শর্তারোপের হুমকি দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। গতকাল বিটিআরসির এক নির্দেশনায় নতুন শর্তারোপের কথা জানানো হয়েছে, যা পরে জারি করা হবে।

টেলিযোগাযোগ খাতে প্রতিযোগিতা আনতে দেশে প্রথমবারের মতো গত ১০ ফেব্রুয়ারি গ্রামীণফোনকে এসএমপি ঘোষণা করা হয়। এর ফলে গ্রামীণফোনের জন্য করণীয় ও বর্জনীয় নির্ধারণ করে দিয়ে বাজারে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করতে পারবে বিটিআরসি। পরে চারটি শর্ত আরোপ করা হয়, যার মধ্যে অন্যতম ছিল এমএনপি (নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর বদলের সুযোগ) নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ। ওই শর্তানুযায়ী এমএনপি সেবা নিয়ে গ্রামীনফোনে ৩০ দিন থেকেই অন্য অপারেটরে বদল করা যায়। যেখানে অন্য অপারেটরের ক্ষেত্রে ৯০ দিন থাকতে হয়। গ্রামীণফোনের জন্য কলড্রপের হার ২ শতাংশের নিচে বেঁধে দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিশেষ চুক্তি এবং বিজ্ঞাপন ও প্রচারের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

ওইসব শর্ত আরোপ করে দেওয়া নির্দেশনাটি গতকাল কমিশন সভায় প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। নতুন নির্দেশনায় ২০ ক্ষেত্রে করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়ে গ্রামীণফোনের বক্তব্য ১৫ দিনের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে বিটিআরসি।

এখন মোবাইল কলের ফি (মোবাইল টার্মিনেশন রেট) অপারেটরদের মধ্যে সমানভাবে ভাগ হয়। নতুন শর্ত আরোপ হলে ইনকামিং কলের ক্ষেত্রে গ্রামীণফোন টার্মিনেশন ফি তুলনামূলক কম পাবে। এ ছাড়া তরঙ্গমূল্য, আয় ভাগাভাগি, অবকাঠামো ভাগাভাগি, এমএনপি নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ, এক্সক্লুসিভিটি, ভয়েস ট্যারিফ, বিজ্ঞাপন ও প্রচার, পণ্য ও সেবা অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং ডেটার সর্বনিম্ন মূল্যসহ মোট ২০টি ক্ষেত্রে শর্তারোপ করা হবে। এর ফলে অন্য অপারেটরদের তুলনায় গ্রামীণফোন ওইসব ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে পারে।

গ্রামীণফোনের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অপারেটরদের মোট রাজস্বে তাদের হিস্যা ২০১৭ সালে প্রায় ৫৩ শতাংশ ছিল। এই বাইরে রবির ২৮ ও বাংলালিংকের ১৮ শতাংশ বাজার হিস্যা ছিল। ২০১৮ সালে গ্রামীনফোনের রেভিনিউ আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে।