বাঘাইছড়িতে ৮ খুনের ঘটনায় মামলা নেই, আটকও নেই

রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় নির্বাচনী কর্মীদের ওপর হামলা ও নিহতের ঘটনায় ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও মামলা হয়নি। পুলিশ বলছে, মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে, যেকোনো মুহূর্তে মামলা হতে পারে।

অন্যদিকে ঘটনার পর যৌথবাহিনীর কম্বিং অপারেশন শুরু হলেও কাউকে আটকের খবর পাওয়া যায়নি।

বাঘাইছড়িতে সাত খুনের ঘটনার পর দিন কম্বিং অপারেশনে মধ্যেই মঙ্গলবার সকালে খুন হয় বিলাইছড়ি উপজেলা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সুরেশ কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা। এই দুটি ঘটনার পর ফের উত্তপ্ত হয়েছে পাহাড়ের পরিস্থিতি। থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে জেলা জুড়ে।

তবে দুই ঘটনায় পুলিশ, প্রশাসন বা নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা দায়ের হয়নি।

বাঘাইছড়ি থানার ওসি আবুল মনজুর জানান, ‘সাতজন নিহতের ঘটনায় মামলা দায়ের প্রস্তুতি রয়েছে। উপজেলার পরিস্থিতি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আছে।

বিলাইছড়ি থানার ওসি পারভেজ আলী জানান, হত্যার ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এখনো কাউকে আটকও করা হয়নি। তবে সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার বিকেলে জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ জানান, জেলার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সাধারণ মানুষের মাঝে ভয়ভীতি, আতঙ্ক নেই, সবাই নির্বিঘ্নে চলাফেরা করছে।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় এখনো মামলা না হলেও মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও সতর্ক দৃষ্টিতে আছে। সন্ত্রাসীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। যৌথবাহিনী তাদের ধরতে চেষ্টা চালাচ্ছে।

মঙ্গলবার ময়নাতদন্ত শেষে বাঘাইছড়ি নিহত সাতজনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের পর রাতে তাদের দাফন ও শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। অন্যদিকে বিলাইছড়িতে নিহত আওয়ামী লীগ নেতার শেষকৃত্য বুধবার দুপুরে সম্পন্ন হয়েছে হয়েছে জানিয়েছেন থানা পুলিশ।

বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ ইকবাল জানিয়েছেন, ‘সকালে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতিকে হত্যার বিচার চেয়ে আওয়ামী লীগ ও স্থানীয়রা প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন। এ ছাড়া বুধবার সকালে নিহত আওয়ামী লীগ নেতার শেষকৃত্য সম্পন্নের জন্য তার বাড়িতে লাশ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে দুই দিনে আট খুনের ঘটনায় বুধবার জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ করেছে জেলা আওয়ামী লীগ। বুধবার সকালে রাঙামাটি পৌরসভা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাংসদ দীপংকর তালুকদার এমপি’র সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নিখিল কুমার চাকমা, চিংকিউ রোওয়াজা ও অংসুপ্রু চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হাজী মুছা মাতব্বর, পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরীসহ অন্যান্য নেতারা।

সমাবেশে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার বলেছেন, হত্যাকাণ্ডের যথোপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে হরতালের চেয়েও বড় কর্মসূচি দেওয়া হবে। আমরা ফুল দেব আর আপনারা গুলি করবেন, এটা বারবার হবে না।