ইউটিউব চ্যানেলটিকে জনপ্রিয় করার চেষ্টা করছি

দেশীয় সংগীতাঙ্গনের অন্যতম জনপ্রিয় ও সফল গায়ক-সংগীতপরিচালক হাবিব ওয়াহিদ। গান নিয়েই তার যত ব্যস্ততা। জীবনের সবটাই যেন গানের জন্য। নিজের ইউটিউব চ্যানেলকে জনপ্রিয় ও সমৃদ্ধ করার প্রত্যয়ে কাজ করছেন নিয়মিত। এই তারকার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাসিদ রণ

ব্যস্ততা কী নিয়ে?

বরাবরের মতো গান নিয়েই ব্যস্ততা। মূলত ভালো মানের স্টেজ-শো নিয়ে ব্যস্ততা। এ মাসে গুলশান ক্লাবসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় কনসার্ট করেছি। এছাড়া মিউজিক কোম্পানির জন্য গান করছি, বিজ্ঞাপনের জিঙ্গেল নিয়ে ব্যস্ততা আছে। নিজের ইউটিউব চ্যানেল নিয়েও ব্যস্ততা রয়েছে। বাবার (ফেরদৌস ওয়াহিদ) তৃতীয় সিনেমার জন্যও একটি গান করতে হবে।

আপনার ইউটিউব চ্যানেলের জন্য একটি প্রজেক্ট করছেন...

আমার নিজের নামেই ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে। বাংলাদেশে কোনো একক শিল্পীর ইউটিউব চ্যানেল সে অর্থে জনপ্রিয় বা সমৃদ্ধ নয়। আমি চেষ্টা করছি আমার চ্যানেলটি যেন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেলে পরিণত হয়। এজন্য সম্প্রতি একটি প্রোজেক্ট শুরু করেছি। নাম ‘‘হাবিব’স মিউজিক লাউঞ্জ’’। এই প্রোজেক্টে আমার সুর-সংগীতে নতুন-পুরনো শিল্পীরা একটি করে মৌলিক গান করবে। এরইমধ্যে বেরিয়েছে পড়শীর ‘আবাহন’ ও লিজার ‘এক যমুনা’। দুটি গানই বেশ সাড়া ফেলেছে।

‘‘হাবিব’স মিউজিক লাউঞ্জ’’-এর নতুন গান কবে আসবে?

আমার ক্যারিয়ারের গোড়ার দিকে করা শাহ আব্দুল করিমের ‘মায়া লাগাইছে’ গানটি গেয়ে বেশ নাম করেছিল হেলাল। ২০০৪ সালে ওটাই ছিল হেলালের সঙ্গে শেষ কাজ। দীর্ঘদিন পর তাকে দিয়ে গান করিয়েছি, খুব ভালো লাগছে। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই আসছে এই গানটি ‘‘হাবিব’স মিউজিক লাউঞ্জ’’ থেকে। এবারের গানটিও আরেকজন বাউল শিল্পীর একটি ফোক গানের রিমেক। আমি নিজেও ফোক গান করছি অনেকদিন আগে। সর্বশেষ করেছিলাম ‘কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু’। বাবাকে দিয়েও একটি গান করিয়েছি। সেটিও এপ্রিলে ভিডিওসহ প্রকাশ করা হবে। ন্যানসিকে দিয়েও একটি গান করানোর ইচ্ছা আছে।

আপনার আর ন্যানসির জুটি তুমুল জনপ্রিয়। একসঙ্গে ম্যাজিক সৃষ্টি করেন...

অনেকেই এ কথা বলে। আসলে আমি নিজেও জানি না, কেন যেন আমার কম্পোজিশনে ন্যানসির কণ্ঠের ওই বিশেষ টোনটি (স্বর) বেরিয়ে আসে। তবে শিল্পী হিসেবে ন্যানসি অনেক উঁচুমানের। তার গায়কি বা কণ্ঠস্বরের তুলনা হয় না। তার সঙ্গে কাজ করতে সব সময় অন্যরকম ভালো লাগে।

চলচ্চিত্রের গানে আপনাকে কম পাওয়া যচ্ছে কেন?

প্রথমত, সিনেমা নির্মাণের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। দ্বিতীয়ত, বিগ বাজেটের সিনেমার সংখ্যা আরও কম। তাই সবারই সিনেমায় কাজের ক্ষেত্র সীমিত হয়ে গেছে আগের তুলনায়। আর আমি বরাবরই খুব বেছে কাজ করি। সিনেমার ক্ষেত্রে এই বাছ-বিচার আরও বেশি। ফলে পরিচালকের সঙ্গে আমার মতের মিল না হলে কাজ করা কষ্টকর। আমি যেভাবে ভাবি তাকেও সেভাবে ভাবতে হবে। ব্যাটে-বলে মিলে গেলে অবশ্যই সিনেমায় কাজ করব। সর্বশেষ করেছিলাম শাকিব খান অভিনীত এস এ হক অলিকের একটি সিনেমায়।

পহেলা বৈশাখে ভক্তদের কী উপহার দেবেন?

আসলে পহেলা বৈশাখের আগে ও পরেই হেলাল ও বাবার গান দুটি আসবে। আর আমি দেশেও থাকছি না। অস্ট্রেলিয়ার প্রবাসী বাঙালিদের আমন্ত্রণে পহেলা বৈশাখের শো করতে যাচ্ছি এপ্রিলের ৬-৭ তারিখে। এজন্য নতুন করে আর কিছু করতে পারব না। তবে পহেলা বৈশাখ দেশেই কাটাব।