শরীয়তপুরে ভুল চিকিৎসায় তিন বছরের এক শিশুর কান নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বুধবার শরীয়তপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এর আগে গত ১২ মার্চ মঙ্গলবার সদর পৌরসভা শহরের হাজী শরীয়তউল্লাহ্ জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াবেটিক সেন্টার ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে।
শিশু তাসমিয়া সদর উপজেলার তুলাসার গ্রামের মো. সানাল মিয়ার মেয়ে।
শিশুটির বাবা সানাল মিয়া ও মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ১০ মার্চ রোববার তাসমিয়া বাসায় সিমের বিচি নিয়ে খেলা করছিল। হঠাৎ করে সিমের বিচি ওর ডান কানের ভেতর ঢুকে যায়। কানে যন্ত্রণা হলে ১২ মার্চ মঙ্গলবার তাসমিয়াকে চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার (নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ ও সার্জন) ডা. মিজানুর রহমানের কাছে নিয়ে যায়। হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্র না থাকার অজুহাতে চিকিৎসক তার প্রাইভেট চেম্বার হাজী শরীয়তউল্লাহ্ জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াবেটিক সেন্টারে নিতে বলেন।
ক্লিনিকে নিয়ে গেলে লোহার সরু লম্বা শালাকা ব্যবহার করে কানের ভেতর থেকে সিমের বিচি বের করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে শিশুটির কানের পর্দা ও মাংসপিন্ড ছিড়ে নিয়ে আসে। শিশুটির কান দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হলে শিশুটি চিৎকার করে অস্থির হয়ে উঠে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অপচিকিৎসার কারণে তাসমিয়া শ্রাবণ শক্তি হারিয়েছে।
তাসমিয়ার বাবা মো. সানাল মিয়া বলেন, মিজান ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় আমার মেয়ের কান সারা জীবনের জন্য নষ্ট হয়ে গেছে। তাই ওই ডাক্তারের বিরুদ্ধে মামলা করেছি।
এ ব্যাপারে ডা. মিজানুর রহমান বলেন, কোনো ডাক্তার রোগীর ক্ষতি চায় না। আমার বিরুদ্ধে এটা মিথ্যা অভিযোগ।
এ বিষয়ে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আব্দুল্লাহ্ বলেন, এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।