‘কী করা উচিত সেটাই ভেবেছি’

১৫ মার্চ। ক্রাইস্টচার্চ। ব্ল্যাক ফ্রাইডে। মসজিদে জুমার নামাজের সময় উন্মত্ত এক সন্ত্রাসীর গুলিতে অর্ধশত মুসল্লি নিহত হলেন। ঘটনার সময় ঘটনাস্থলের ৫০ গজের মধ্যে আটকে ছিল নামাজ পড়তে রওনা হওয়া বাংলাদেশ দল। নামাজ পড়া হয়নি। অল্পের জন্য প্রাণ বেঁচেছে। আর হয়েছে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা। শুধু ওই সময় নয়, পুরো সফরে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করা খালেদ মাসুদ পাইলট ছিলেন তৎপর। তার প্রশংসা চারদিকে। মিডিয়াও খুব সহায়তা পেয়েছে সফরে। সব মিলে সাবেক অধিনায়কের জন্য কেমন ছিল ম্যানেজারের নতুন দায়িত্বের অভিজ্ঞতা? এই সপ্তাহের সাক্ষাৎকার তাই সাবেক এই অধিনায়কের। কথা বলেছেন মোহাম্মদ খাইরুল আমিন

 

প্রথমবার ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করলেন। কেমন উপভোগ করলেন?

হ্যাঁ, বেশ উপভোগ করেছি। আমার মনে হয় ম্যানেজারের কাজটা সহজ এই কারণে যে, এখন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা অনেক সুশৃঙ্খল। অনেক ভদ্র। আসলে তাদের ব্যবহার এবং শৃঙ্খলার দিক দিয়ে আমি

চিন্তামুক্ত ছিলাম। আর অন্যদিকও খুব গোছানোই থাকে কারণ বোর্ড এখন অনেক বড় হয়ে গেছে। কাজ করে মজা।

একটু বিস্তারিত জানতে চাইছিলাম...

আমার অভিজ্ঞতা বলছে যে, নিউজিল্যান্ড বোর্ড থেকে যেসব জায়গাগুলোতে খেলা হয়েছে সবার সঙ্গে সুন্দর একটা সম্পর্ক তৈরি করতে পেরেছি। ভবিষ্যতে আমাদের ডেভেলপমেন্টে মাঠের কোনো সহায়তা লাগলে যাতে কাজে লাগে সেজন্য এসব। আমি আসলে ম্যানেজার হিসেবে সময়টার সর্বোচ্চ ব্যবহার করার চেষ্টা করেছি। ম্যানেজারের কাজ টিমকে নিয়েই। কাগজে কলমে এসব কিছু হয়তো নেই।

উদাহরণ দিলে আরও স্পষ্ট হতো...

ওদের ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ভালো একটা সম্পর্ক তৈরি করার চেষ্টা করেছি। যাতে ভবিষ্যতে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়েতে যেকোনো খেলার পরিকল্পনা সহজ হয়। আমার কাছে মনে হয়েছে এই সম্পর্ক তৈরি করাটা গুরুত্বপূর্ণ। এতে করে সহজে আপনার কাজটা চলে আসবে।

দল যখন নিউজিল্যান্ডে তখন আপনার কাছ থেকে মিডিয়াও সংবাদ-ভিডিও সংগ্রহের ক্ষেত্রে বেশ উপকৃত হয়েছে...

এবার তো মিডিয়া ম্যানেজার কেউ ছিলেন না। মনে হয়েছে বসে না থেকে কিছু দিতে পারি তাহলে সবার তা উপকারে আসবে। প্র্যাকটিসে কিংবা সংবাদ সম্মেলনে বসে না থেকে ওগুলো ভিডিও করে ফেলতাম। তারপর রুমে এসে ওয়াই-ফাইয়ের মাধ্যমে আপ করে ফেলতাম। নিউজিল্যান্ডে দল কী করছে সে ব্যাপারে দেশের মানুষ যেন আপডেট থাকে সেটা নিশ্চিত করতেই এটা করতাম। নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশে

থাকলে কী দেখতে বা জানতে চাইতাম সেটা অনুভব করে সেভাবে কাজগুলো করতাম।

দুয়েকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথা বলে ম্যানেজার হিসেবে আপনার প্রশংসা শুনেছি। তাদের কাছ থেকে কেমন ফিডব্যাক পেয়েছেন?

ভালো। আমি তো এই প্রথম ম্যানেজার হিসেবে কাজ করলাম। খেলোয়াড়দের আমার খুব ভালো লেগেছে। ওরা ওদের সবকিছুর ব্যাপারে খুবই সৎ, খুব ভালো।

ক্রাইস্টচার্চে যে ভয়ংকর ঘটনার মধ্যে পড়েছিলেন তা থেকে কীভাবে বের হয়ে আসছেন?

আসলে পুরো সফরে আমি কখনো আবেগপ্রবণ হইনি। (ওই ঘটনার পর) যখন রুমে একা হয়েছি তখন হয়তো কিছুটা এসেছে। যখন বাসে ছিলাম তখন মনে হয়েছে এই ছেলেগুলো সব তো আমার দায়িত্বে। ওই মুহূর্তে কী করা উচিত সেটাই ভেবেছি। মানুষ মারা যাচ্ছে সামনে কিন্তু আমি ভাবছিলাম আমাদের খেলোয়াড়দের নিয়ে। এরপর কোথায় যাওয়া উচিত, কী করা উচিত, এখান থেকে কীভাবে বের হয়ে আসা যায়। আমি মনে করেছি কাজটা কীভাবে শেষ করতে পারি। কীভাবে সবাইকে নিরাপদে হোটেলে নিয়ে যেতে পারি, ঢাকায় বাড়িতে ফেরার ব্যবস্থা করে দিতে পারি এসব। দ্রুত ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে টিকিটের ব্যবস্থা করেছি। এসব চিন্তা ও কাজের মধ্য দিয়ে গেছি।

একেবারে পেশাদার...

আমিও ওইসব ভিডিও ফুটেজ দেখেছি কিন্তু আমার মনে হয়েছে, বাংলাদেশ দলকে কীভাবে দেশে পৌঁছানো যায় সেটাই আমার প্রথম কাজ। সবকিছু স্বাভাবিকভাবে করাটা গুরুত্বপূর্ণ। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের সহায়তা যতটা নেওয়া যায় তা নিয়ে কাজটা বের করেছি। তখন সব স্টাফকে নিয়ে মিটিং করেছি। খেলোয়াড়দের নিয়ে মিটিংয়ে বসেছিলাম যে আমাদের করণীয় কী। সবাইকে বলেছিলাম, আমাদের একটু কঠিন সময় যাবে। কিন্তু একটা দিন যেন আমরা একটু কষ্ট করে পার করে দিই। সবাই যেন ঠিকমতো বাড়ি ফিরতে পারে। খুব সহায়তা পেয়েছি সবার।

আসলে খুব কঠিন সময় ছিল বুঝতে পারি...

ধরুন, পরের দিন সকাল বেলা যখন সব ব্যাগ এসেছে মাঠ থেকে... ওদিন তো আমরা মাঠ থেকে আমাদের ব্যাগ আনতে পারিনি। সব তো আটকানো। সকাল ৯টায় চেক আউট। ৬টার মধ্যে উঠে গিয়ে লিয়াজোঁকে দিয়ে ৭টার মধ্যে ব্যাগ আনানোর ব্যবস্থা করেছি। সব চলে এলে সবাই মিলে গোছানোর কাজ করেছি। তখন এটাই তো কাজ।