প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে শ্রেণি পরিবর্তনে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শ্রেণিকক্ষে পারদর্শিতা, সৃজনশীলতা ও খেলাধুলাকে বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা। তারা বলছেন, শুধু তৃতীয় শ্রেণি নয় শিগগিরই পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা তুলে দেওয়া উচিত। পরীক্ষা তুলে নেওয়ার পর মূল্যায়ন পদ্ধতি বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ঠিক হবে বলে গত মঙ্গলবার জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।
এ বিষয়ে জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির কো-চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তকে আমি সাধুবাদ জানাই। জাতীয় শিক্ষানীতিতেও পরীক্ষা তুলে দেওয়ার কথা বলা আছে। প্রধানমন্ত্রী যা করেছেন তা যথার্থই করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘ফিনল্যান্ডের শিক্ষাব্যবস্থা সবচেয়ে ভালো। সেখানে ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের কোনো পরীক্ষা দিতে হয় না। বাংলাদেশের উচিত তাদের অনুসরণ করা। পঞ্চম শ্রেণির যে সমাপনী পরীক্ষা রয়েছে তা-ও দ্রুত তুলে দেওয়া উচিত।’
পরীক্ষা না থাকলে মূল্যায়নের পদ্ধতির বিষয়ে জানতে চাইলে এই শিক্ষাবিদ বলেন, ‘ক্লাসের উপস্থিতি, কুইজ, খেলাধুলায় ভালো করা, ক্লাসে মনোযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর মূল্যায়ন করা যেতে পারে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শিশুদের এত পরীক্ষার চাপে না রাখার জন্য বহুবার বহুভাবে আমরা সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে এসেছি। দেরিতে হলেও প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি উপলব্ধি করেছেন বলে তার প্রতি অনেক কৃতজ্ঞতা। তার এমন উদ্যোগে আমি ব্যক্তিগতভাবে খুবই খুশি হয়েছি। কারণ, শিশুরা শিখবে প্রকৃতি থেকে, বাস্তবতা থেকে। নদীর পাড়ে খেলতে গিয়ে সেখানে কী দেখলÑ সেটাই ক্লাসে এসে লিখবে শিশুরা, চিড়িয়াখানায় কী দেখলÑ সেটাই লিখবে। এভাবেই শিশুরা সৃজনশীল হবে। খুবই আনন্দের সঙ্গে পড়াশোনা করবে। কিন্তু পরীক্ষার চাপে রাখলে শিশুদের মেধার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।’
পরীক্ষা তুলে দিলে শ্রেণি উত্তরণে মূল্যায়নের পদ্ধতি কী হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শ্রেণিভিত্তিক ও ক্লাসভিত্তিক মূল্যায়ন হওয়া উচিত। লিখিত মূল্যায়ন হবে অনেক কম নম্বরের, বাকি সবই হওয়া উচিত সৃজনশীলতার জন্য। প্রতি ক্লাসে শিশুদের উপস্থিতি, স্কুল থেকে দেওয়া ডায়েরির রিপোর্টই মূল্যায়নের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
সৈয়দ মনজুরুল বলেন, ‘শিক্ষানীতিতে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক স্তর ধরা হয়েছে। প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা তুলে দেওয়া হলেও চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে পরীক্ষা দুটি রয়ে গেল। আমার মনে হয় এ দুটিও প্রধানমন্ত্রী তুলে দেবেন খুব দ্রুতই। কারণ এই পরীক্ষার কুফলটা তিনি বুঝতে পেরেছেন।’
মূল্যায়নের বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম আল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা এটা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছি। ক্লাসে শিক্ষার্থীদের পারফরমেন্সের মাধ্যমেই তাদের মূল্যায়ন হবে, তবে সেটা কী কী বিষয়ে হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রীর কিছু সুপারিশকে মাথায় রেখে শিক্ষাবিদদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে।’