সাংবাদিকদের রিজভী

প্রধানমন্ত্রী আজীবন ক্ষমতায় থাকার খোয়াব দেখছেন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজীবন ক্ষমতায় থাকার খোয়াব দেখছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, বাকশাল থাকলে নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠত না বলে প্রধানমন্ত্রী যে কথা বলেছেন তাতে প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে যে, তিনি আজীবন ক্ষমতায় থাকার খোয়াব দেখছেন। কারণ তিনি যা করতে চান তা আগেভাগে জানিয়ে দেন। গতকাল বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘বাকশালের ভোট কোথায়? বাকশাল মানে তো একদলীয় ব্যবস্থা। তার মানে আওয়ামী লীগ সরকার ও তার প্রধান জনগণকে একেবারে বেকুব, একেবারে বোকা মনে করে। উনি মনে করেন, তার অবৈধ ক্ষমতার জোরে যা ইচ্ছা বলবেন, সেটাই মানুষ বিশ্বাস করবে। কিন্তু মানুষ এত বেকুব নয়। তাহলে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন এবং উপজেলা পরিষদের দুই দফা নির্বাচনে ভোট দিতে মানুষ ভোটকেন্দ্রে যেত।’

রিজভী বলেন, ‘উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হতে নৌকা প্রতীক লাগে, জনগণের ভোট লাগে না। অলিখিত বাকশাল তো এখনো চলছে। কিছুদিন আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আগের রাত্রে ভোট চুরির স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ নেতা ও নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদও দুই দিন আগে স্বীকার করেছেন, রাতে সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভর্তি করার কথা। এত কিছুর পরও বাকশাল বলতে আর বাকি কী থাকল?’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘আর মাত্র চার দিন পরেই মহান স্বাধীনতা দিবস। হাতের মুঠোয় প্রাণ নিয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। আজকে তার স্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হত্যার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। অথচ খালেদা জিয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জনগণের আস্থার প্রতীক।’

তিনি বলেন, দেশের মানুষের বুঝতে এতটুকু বাকি নেই যে, প্রধানমন্ত্রীকে চরম প্রতিহিংসার বাসনা চরিতার্থ করতে পেয়ে বসেছে। তিনি পরিত্যক্ত অন্ধকার স্যাঁতসেঁতে কারাগারে ভয়াবহ ও চূড়ান্ত অসুস্থ খালেদা জিয়ার যন্ত্রণার ছটফটানি দেখে আনন্দ উপভোগ করছেন। তিনি খালেদা জিয়াকে জীবিত দেখতে চান না। তাই চিকিৎসার অভাবে গুরুতর অসুস্থ ৭৪ বছরের বয়স্ক নারীকে প্রহসনমূলক বিচারের আদালতে টেনেহিঁচড়ে প্রায় প্রতিদিনই হাজির করা হচ্ছে।

অন্যদের মধ্যে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবে রহমান শামীম, কেন্দ্রীয় নেতা এবিএম মোশাররফ হোসেন, আবদুস সালাম আজাদ ও মুনির হোসেন সেখানে ছিলেন।