এমপিও দাবিতে আন্দোলন

প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চান শিক্ষক-কর্মচারীরা

বেতনের সরকারি অংশ তথা এমপিও দাবিতে আন্দোলনরত নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান। তারা চান, এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি বাস্তবায়নের জন্য যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়ন করা হোক। গতকাল শুক্রবার আন্দোলনের তৃতীয় দিন রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নেওয়া শিক্ষক-কর্মচারীরা এমন ইচ্ছা পোষণ করেন। 

এর আগে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের জন্য তার কার্যালয়ের দিকে পদযাত্রা শুরু করেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। পুলিশ রাজধানীর কদম ফোয়ারার সামনে ব্যারিকেড দেয় তাদের। এরপর থেকে শিক্ষক-কর্মচারীরা সেখানেই অবস্থান করছেন। তারা বলেছেন, দাবি পূরণ না হলে তারা ঘরে ফিরে যাবেন না।

কয়েক শিক্ষক দেশ রূপান্তরকে জানান, সারা দেশের পাঁচ হাজারের বেশি নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী গত ২০ মার্চ থেকে সেখানে অবস্থান করছেন। কিন্তু এখনো সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাননি তারা। 

এ বিষয়ে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমাদের বিশ্বাস আছে, তিনি এই নায্য ও যৌক্তিক দাবি মেনে নেবেন।’

এই শিক্ষক নেতা বলেন, ‘সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে প্রায় ১৫-২০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী ঢাকায় এসে এমপিওভুক্তির দাবিতে আন্দোলন করছেন। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্তির দাবিতে মানবিক আবেদন জানিয়ে আসছি। এর আগে ২০১৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর আমরা এখানে আসি। ছয় দিন অনশনের পর ৫ জানুয়ারি যখন আমাদের কিছু শিক্ষক-কর্মচারী মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, রাশেদা কে চৌধুরী, তারেক জিয়া উদ্দিন ঘটনাস্থলে আমাদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আপনাদের দাবি মেনে নিয়েছেন। আপনারা অনশন ভেঙে বাড়ি চলে যান। আপনারা প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা রাখুন।’

ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ড. বিনয় ভূষণ রায় বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সে দাবি পূরণ হয়নি। এভাবে আর মানবেতর জীবনযাপন করতে চাই না, আমরা এমপিওভুক্তি চাই।’ তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৩টায় ফেডারেশনের বরগুনা জেলার সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক শৈলেন চন্দ্র মজুমদার (৫০) অবস্থানস্থলে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। তিনি বর্তমানে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) আছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।