প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল শুক্রবার গণভবনে রাজধানীতে বাসচাপায় নিহত বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরীর মা-বাবাকে সান্ত্বনা দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব সাখাওয়াত মুন জানান, গতকাল রাত সোয়া ৮টার দিকে আবরারের বাবা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আরিফ আহমেদ চৌধুরী ও মা ফরিদা ফাতেমী গণভবনে এসেছিলেন। তারা প্রায় এক ঘণ্টা গণভবনে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় আবরারের মা-বাবাকে সান্ত্বনা দেন এবং তাদের সন্তানের মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি আবরারের রুহের মাগফিরাতও কামনা করেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন ও আবরারের ভাই এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
গত মঙ্গলবার সকালে বিইউপির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র আবরার রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার কাছে নদ্দায় সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাসের চাপায় নিহত হন। মামলার তদন্তে ডিবি : বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরী নিহতের ঘটনায় মামলার তদন্তভার মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে গুলশান থানা পুলিশের কাছ থেকে মামলায় গ্রেপ্তার আসামিসহ সব নথিপত্র গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান জোনাল টিমের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে।
গুলশান থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক গতকাল শুক্রবার দেশ রূপান্তরকে জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী আবরারের মামলার সব নথিপত্র বৃহস্পতিবার রাতেই গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গত ১৯ মার্চ সকালে রাজধানীর প্রগতি সরণির আইকন টাওয়ার সংলগ্ন জেব্রা ক্রসিংয়ে সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাস আবরারকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সেদিন রাত ১১টায় আবরারের বাবা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আরিফ আহমেদ চৌধুরী গুলশান থানায় মামলা করেন। গুলশান থানা পুলিশ দুর্ঘটনায় দায়ী বাসটি জব্দ করার পাশাপাশি বাসের চালক সিরাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। মামলায় বাসের সহকারী, কন্ডাক্টর ও মালিককে আসামি করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার চালক সিরাজুল গুলশান থানা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, শাহজাদপুর বাঁশতলা সড়কে এক নারী পথচারীকে চাপা দিয়ে দ্রুতগতিতে পালানোর চেষ্টা করছিল। একপর্যায়ে আইকন টাওয়ারের সামনে এসে তার বাসের চাপায় পড়েন শিক্ষার্থী আবরার। ওসি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি, বাঁশতলায় চাপা দেওয়া পথচারী নারীর নাম সিনথিয়া সুলতানা মুক্তা। তার সঠিক চিকিৎসার জন্য আর কোনো তথ্য সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।