মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত কমিটি বাঘাইছড়ির হত্যা ‘নির্বাচনী বিরোধ’

উপজেলা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষে ফেরার পথে বাঘাইছড়িতে সাতজনকে ব্রাশফায়ারে হত্যার ঘটনাকে ‘নির্বাচনী বিরোধ’ বলে মনে করছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত কমিটি। গতকাল শুক্রবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে কমিশনের পরিচালক (অভিযোগ ও নিরীক্ষা) আল মাহমুদ ফাইজুল কবির বলেন, ‘সবার সঙ্গে কথা বলে আমার মনে হয়েছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই হামলা হতে পারে। যেহেতু হামলার লক্ষ্য ছিল প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসারসহ নির্বাচনে যুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এখানে যে দুজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে, তাদের বিরোধের কারণে নির্বাচনেও এর প্রভাব পড়েছে।’ এ ঘটনার চার দিন পর গতকাল দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তিনি এলাকাবাসী, ওসি ও বাঘাইছড়ি থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসাধীন আহতদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তার সঙ্গে মানবাধিকার কমিশনের কর্মকর্তা শাহ পরানও ছিলেন।

ফাইজুল কবির আরও বলেন, ‘তিনটি চাঁদের গাড়ি করে তারা আসছিলেন, তাদের নিরাপত্তায় বিজিবির একটি গাড়ি থাকার পরও     তারা কেন এনকাউন্টারে যায়নি এটা আমার কাছে দুঃখজনক মনে হয়েছে। তারা প্রোটেকশন দিতে পারত।’ নিহত চার সদস্যকে আনসারের অনুদান বাঘাইছড়িতে নিহত চার সদস্যের পরিবারকে গতকাল সকালে এক লাখ টাকা করে অনুদান দিয়েছে জেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। বাহিনীর চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিচালক মো. শামসুল আলম জেলা কমান্ড্যান্ট কার্যালয়ে চার পরিবারের সদস্যদের হাতে প্রতিশ্রুত ৫ লাখ টাকার মধ্যে নগদ ১ লাখ টাকা তুলে দেন। আনসারের নিহত সদস্যরা হলেন মিহির কান্তি দত্ত, বিলকিস আক্তার, জাহানারা বেগম ও আল আমিন।

আনসারের হারানো রাইফেল উদ্ধার

বাঘাইছড়িতে নিবাচনকর্মীসহ সাতজনকে ব্রাশফায়ারে হত্যার চার দিন পর আনসারের নিহত প্লাটুন কমান্ডার মিহির কান্তি দত্তের খোয়া যাওয়া ৩০৩ রাইফেলটি উদ্ধার হয়েছে। বাঘাইছড়ি উপজেলা আনসার কর্মকর্তা আবুল বাসার জানিয়েছেন, গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় তল্লাশি অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে এক কিলোমিটার দক্ষিণে রাস্তার পাশ থেকে রাইফেলটি উদ্ধার করা হয়। এদিকে, বাঘাইছড়ির ঘটনায় গুলিবিদ্ধ আরও দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে খাগড়াছড়ি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তারা হলেনÑ রওশন আরা বেগম ও জ্যোৎস্না চাকমা।

অন্যদিকে এ ঘটনার পর ‘কম্বিং অপারেশন’ চালানো হলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি যৌথবাহিনী। পুলিশ সুপার আলমগীর কবির জানিয়েছেন, অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।