বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল কোম্পানি সৌদি আরবের আরামকোর ২ কোটি টন জ্বালানি তেল পরিশোধনের বিনিয়োগ-প্রস্তাবে সরকার উচ্ছ্বাসিত হলেও বাংলাদেশের চাহিদার তুলনায় তিন গুণ বেশি তেল শোধনের পর তা রপ্তানির করা নিয়ে চিন্তায় পড়েছে। তেল শোধন করে প্রতিবেশী কোনো দেশে রপ্তানি করা না গেলে খুব একটা লাভজনক হবে না। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আরামকোর প্রস্তাব অনুযায়ী দেশে দেড় কোটি থেকে ২ কোটি টন জ্বালানি তেল ধারণক্ষমতার শোধনাগার স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এখন দেশের জ্বালানি তেলের চাহিদা ৬৫ লাখ টন। ২০২৫ সালে তা বেড়ে সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টনে উন্নীত হতে পারে। তার পরও পরিশোধিত অনেক তেল বাড়তি থাকবে। এই তেল লাভজনকভাবে রপ্তানি করা নিয়ে ভাবছে সরকার। কারণ দূরের কোনো দেশে জাহাজে রপ্তানি করতে খরচ বেশি হবে। সে ক্ষেত্রে ভারত, নেপাল ও চীনে রপ্তানির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে হবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. সামছুর রহমান গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আরামকো বাংলাদেশে দেড় কোটি থেকে ২ কোটি টন ক্ষমতার জ্বালানি তেল রিফাইনারি স্থাপন করতে আগ্রহী। কিন্তু এখন বাংলাদেশের চাহিদা ৬৫ লাখ টনের মতো। প্রতি বছর মোটামুটি ৫ শতাংশ হারে চাহিদা বাড়ছে বাংলাদেশে। এরই মধ্যে এলএনজি আমদানি ও দেশে হাইব্রিড ও ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানি শুরু হলে জ্বালানি তেলের চাহিদা তখন আর এই হারে বাড়বে না। তাতে ২০২৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশের জ্বালানি তেলের চাহিদা হবে ৭০ লাখ থেকে ৮০ লাখ টন।
বিপিসির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ১২ লাখ ৩৩৬ টন জ্বালানি তেল ধারণের ক্ষমতা রয়েছে। চলমান চাহিদার বাইরে এই পরিমাণ তেল সংরক্ষণ করতে পারে বিপিসি।
বিপিসির চেয়ারম্যান বলেন, পরিশোধিত বাড়তি তেল রপ্তানির দায়িত্ব আরামকো নেবে না, বাংলাদেশকেই রপ্তানি করতে হবে। অপরিশোধিত তেল জাহাজে করে এনে তা শোধন করে আবারও জাহাজভাড়া দিয়ে রপ্তানি করতে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় খরচ কিছুটা বেশি হবে। তাই আশপাশের দেশগুলোকেও বিবেচনায় নিয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করতে একটি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য বাংলাদেশের সীমান্তঘেঁষা। এসব অঞ্চলে জ্বালানি তেল রপ্তানি করার সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। তা ছাড়া, নেপাল জ্বালানি তেল আমদানিকারক দেশ। বাংলাদেশ থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল নেপালে রপ্তানি করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তা ছাড়া, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সড়ক যোগাযোগ গড়ে উঠলে সেখানেও রপ্তানি করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সম্প্রতি সৌদি আরব থেকে আসা উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বাংলাদেশের সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানেও আরামকো বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাদের সফরের সময়ই আরামকোর এই বিনিয়োগ-প্রস্তাব নিয়ে যৌথভাবে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি সমঝোতা স্মারক সই করার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল বাংলাদেশ। তবে আরামকোর প্রতিনিধিরা বাংলাদেশকে এককভাবে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব দিয়েছে। তাই সমঝোতা স্মারকটি সই হয়নি। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেডকে (বিআইএফএফএল) সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব দিয়েছে বলে জানা গেছে।