আগামী বছর থেকেই প্রাথমিকে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত বার্ষিক পরীক্ষা তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। গতকাল রবিবার দুপুরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সমাপনী এবং ইবতেদায়ি পাস শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তিপ্রাপ্তদের ফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশে প্রাথমিক পর্যায়ে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। শিক্ষাবিদসহ বিশেষ ব্যক্তিদের পরামর্শের ভিত্তিতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
জাকির বলেন, ‘তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা তুলে দিলেও একটি বিশেষ মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ক্লাসে পদোন্নতি দেওয়া হবে। নতুন সিলেবাস তৈরিতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডকে (এনসিটিবি) দায়িত্ব দওয়া হয়েছে। এনসিটিবি একটি খসড়া তৈরি করেছে। পরে কর্মশালার আয়োজন করে সবার পরামর্শের ভিত্তিতে তা চূড়ান্ত করা হবে।’ প্রাথমিকে বৃত্তি পেল সাড়েপর্যন্ত পরীক্ষা বাতিল ৮২ হাজার : একই সভায় প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০১৫ সাল থেকে পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফলের ওপর ভিত্তি করে প্রতি বছর ৮২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। এবার মেধা কোটায় (ট্যালেন্টপুল) বৃত্তি পাবে ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী। সাধারণ কোটায় বৃত্তি পাবে সাড়ে ৪৯ হাজার। মেধা কোটায় বৃত্তিপ্রাপ্তরা ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতি মাসে ৩০০ টাকা এবং সাধারণ কোটায় ২২৫ টাকা করে বৃত্তির অর্থ পাবে।
এ বছর বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ঝরে পড়া রোধ, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি ও সুষম মেধা বিকাশের লক্ষ্যে উপজেলাভিত্তিক এই বৃত্তি দেওয়া হয়। ফলে সব শিক্ষার্থী বৃত্তি পাওয়ার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারে ও শিক্ষার মান বৃদ্ধি পায়।’
গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও ইবতেদায়ি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। পিইসিতে পাস করে ৯৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ। ইবতেদায়িতে এ হার ৯৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ। পিইসি ও ইবতেদায়ি পরীক্ষায় মোট ৩০ লাখ ৯৫ হাজার ১২৩ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল।