এ বছরই ভুটান ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে নৌপথ চালুর আশা

ভারতের সঙ্গে নৌপথে যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচলের সিদ্ধান্ত হওয়ার পর এবার বাংলাদেশের সঙ্গে ভুটান ও শ্রীলঙ্কার নৌপথে চলাচল শুরু হচ্ছে। দুটি দেশের সঙ্গেই প্রথমে আমদানি-রপ্তানি ব্যয় কমাতে কার্গো জাহাজ চলাচল করবে। পরে চাহিদা বুঝে যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল করবে। এ বছরের মধ্যেই সব প্রক্রিয়া শেষে দুই দেশের মধ্যে নৌপথ চালু হবে বলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের আশা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নৌসচিব আবদুস সামাদ গতকাল রোববার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভুটান ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে আমাদের জাহাজ চলাচলের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দুই দেশের সঙ্গে      আমাদের আলাপ-আলোচনা হয়েছে। এখন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) সই হবে। সব কিছু ঠিক থাকলে এ বছরই জাহাজ চলাচল চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।’
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ভুটান বাংলাদেশের সঙ্গে বৈদেশিক বাণিজ্যে সড়কপথের খরচ কমাতে মংলা ও চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করতে চায়। সে জন্য আজ সোমবার ব্যবসায়ী ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ভুটানের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে আসছে। তা নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসবে। সেখানে এসওপি সই হবে। পরে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিটিসি) সহযোগিতায় ৩১ মার্চ প্রতিনিধিদলটি রুট নির্ধারণে কাজ শুরু করবে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় শ্রীলঙ্কা ও ভুটানের সঙ্গে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে তাগিদ দেওয়া হয়। কার্গোর পাশাপাশি প্যাসেঞ্জার ও সি-ক্রুজের ব্যবস্থা করা যায় কি না তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। সে সঙ্গে দুই দেশের সঙ্গে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই নির্দেশনার আলোকে কাজ করছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানা, এখন শ্রীলঙ্কার সঙ্গে নৌ-প্রটোকল চুক্তির বিষয়ে চিঠি চালাচালি চলছে। এরই মধ্যে একবার খসড়া পাঠানো হয়েছে শ্রীলঙ্কায়। তাতে কিছু বিষয়ে দেশটি মতামত জানিয়েছে। ওইসব মতামত সংযোজন করে শিগগিরই ওই খসড়া আবার পাঠানো হবে। দুই দেশ সম্মত হলে এ বছরই এসওপি সই হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তারা বলছেন, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে এসওপি সই হলে কলম্বো ও হাম্বানটোটার বন্দর ব্যবহারে বাংলাদেশে সুবিধা পাবে। এখানকার অনেক জাহাজ যেগুলো সিঙ্গাপুর হয়ে আসে, এতে সময়ও বেশি লাগে, খরচও বেশি লাগে। এদিক থেকে বাংলাদেশ লাভবান হবে। সুবিধাও পাবে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মুহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ভুটান ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে আমরা প্রথমে কার্গো জাহাজ চালু করব। পরবর্তী সময়ে যদি যাত্রীরা আগ্রহ দেখায়, তখন যাত্রীবাহী জাহাজ চালু হবে। তবে এই সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। কারণ এত লম্বা সময়ে কেউ জাহাজে করে ওই দুই দেশে যেতে চাইবে না।’
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম খান বলেন, ‘শ্রীলঙ্কা ও ভুটানের সঙ্গে যদি আমাদের কার্গো জাহাজ চলাচল শুরু হয়, ব্যবসায়ীরা লাভবান হবে। পণ্য আমদানি রপ্তানির ক্ষেত্রে যত ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সংযোজন ঘটবে, ততই আমাদের জন্য মঙ্গলজনক।
আগামী ২৯ মার্চ পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা নৌরুটে যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচলের মধ্য দিয়ে ভারতের সঙ্গে প্রথম নৌপথ চালু হতে যাচ্ছে।